kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

লকডাউনে উদ্বিগ্ন পোশাক মালিকরা ব্যয় বাড়বে তিন গুণ

পণ্য পাঠাতে হবে উড়োজাহাজে

এম সায়েম টিপু   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পণ্য পাঠাতে হবে উড়োজাহাজে

তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট যেন কিছুতেই কাটছে না। রানা প্লাজা ধসের পর বিদেশি ক্রেতাদের চাপে পড়েন উদ্যোক্তারা। এ জন্য কারখানা কমপ্লায়েন্স করতে গিয়ে কেউ টিকে থাকলেও অনেকেই হারিয়ে গেছে। অর্ধেকে নেমে এসেছে দেশের মোট পোশাক কারখানা। তবে এখন বিশ্বের সেরা কারখানার দাবি করলেও নতুন করে করোনার দখল কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশের পোশাক খাতকে।

এদিকে করোনার প্রথম ধাক্কায় সরকারের প্রণোদনা, উদ্যোক্তাদের সাহসী উদ্যোগ এবং শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকির বদৌলতে সদ্যোবিদায়ি অর্থবছরে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে দেশের রপ্তানি খাত। কিন্তু এবার করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্ট আবারও কাবু করে ফেলেছে। পোশাক রপ্তানির ভরা মৌসুমেও ঈদ আর লকডাউনের ১৭ দিনে ফাঁদে পড়ে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এ ছাড়া লিড টাইম (পণ্য জাহাজীকরণের সময়) মেনে চলা এবং পণ্য উড়োজাহাজে পাঠানো নিয়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মো. শাহীদউল্লাহ আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লিড টাইমের কারণে সাধারণ জাহাজীকরণ করতে যে পরিবহন ব্যয় হতো, একই পণ্য উড়োজাহাজে পাঠাতে হলে প্রায় তিন গুণ ব্যয় বেড়ে যাবে। যেখানে ছয় থেকে সাত হাজার ডলার পরিবহন খরচ সেখানে এয়ারফ্রেটের কারণে ১৬ থেকে ১৭ হাজার ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে এই খরচ। অর্থাৎ পণ্য পাঠাতে পরিবহন খরচ বাড়বে প্রায় তিন গুণ। এতে পণ্য রপ্তানি করে লোকসানে পড়বেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে বাড়বে ব্যাংকঋণ।’

তিনি আরো বলেন, দ্রুত ফ্যাশন পরিবর্তনের এই সময়ে লিড টাইম পেছালে কার্যাদেশ বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে। ক্রিসমাস ও শীতকালীন মৌসুমসহ সারা বছরের মোট রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ যায় এই সময়। তাই লকডাউন বড় ধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে রপ্তানিকারকদের।

ঈদের ছুটি আর লকডাউন সব মিলে ১৭ দিনের ছুটি থাকবে কারখানাগুলোতে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ঈদের সাধারণ ছুটি। আর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট দেশজুড়ে লকডাউন। এর ফলে মোট বন্ধ থাকছে ১৭ দিন। সাধারণত ঈদে পোশাক কারখানাগুলো ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটি দিয়ে থাকে। কারণ সারা বছর পোশাক শ্রমিকরা কোনো ছুটি না নিলেও ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটি নিয়ে তাঁরা বাড়ি যান। এটা প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন। এ জন্য অবশ্য তাঁরা ছুটির আগে কাজ করে দেন। ফলে লকডাউনে কারখানা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে সাত দিনের উৎপাদন ব্যাহত হবে।

এদিকে লকডাউনে কার্যাদেশ বাতিলের যে আশঙ্কা উদ্যোক্তারা করছেন তা উড়িয়ে দিয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ক্রেতা-বিক্রেতার বাণিজ্যিক সম্পর্ক। সাত দিনের ছুটির ফাঁদে পড়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে কার্যাদেশ বাতিল করবে, এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল (ফাস্ট ফ্যাশন) পোশাক সময় মতো দিতে না পারলে চুক্তি অনুসারে কিছু ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রপ্তানিকারকদের। অথবা জাহাজীকরণের থেকে কিছুটা বেশি অর্থ দিয়ে উড়োজাহাজে পণ্য পাঠাতে হতে পারে। এ ছাড়া বন্দর, ব্যাংক এবং রপ্তানির জন্য পরিবহন খোলা থাকার ফলে রপ্তানিতে তেমন সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়।’

এ বিষয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বর্তমান লকডাউনে খুব একটা সমস্যায় না পড়লেও লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে সংকট তৈরি হতে পারে। কারখানায় বর্তমান যেসব কার্যাদেশ আছে এসব কাজ চার থেকে পাঁচ মাস আগের। শীতকালীন অর্ডারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন যেসব অর্ডার আসবে এগুলো শরৎকালের।

তিনি বলেন, কিছু জরুরি ফ্যাশন পণ্য লিড টাইম সংকটে পড়বে। লিড টাইম মিট করতে না পারলে উদ্যোক্তারা পোশাকের দাম কম পাবেন। কিন্তু অর্ডার বাতিল হবে না।



সাতদিনের সেরা