kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

রেমিট্যান্সে উড়ন্ত গতি

♦ ১৫ দিনে এসেছে ১২৬ কোটি ডলার
♦ ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আসে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেমিট্যান্সে উড়ন্ত গতি

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনে ১২৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পর থেকে করোনার মধ্যেও রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতি ধারা অব্যাহত রয়েছে। আর ঈদুল আজহার কারণে জুলাই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে উড়ন্ত গতি বিরাজ করছে। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে তার সঙ্গে আরো দুই টাকা যোগ করে মোট ১০২ টাকা পাচ্ছেন সুবিধাভোগী। এ ছাড়া ঈদ উৎসবে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এরপর ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১৬ কোটি ৯২ লাখ, অগ্রণী ব্যাংক ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ও সোনালী ব্যাংক এনেছে সাত কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

গত বছরের জুলাই মাসে একক মাস হিসেবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স দেশে আসে। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার। আর গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৯৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। সব মিলিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬.১০ শতাংশ বেশি। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮.২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অর্থবছর হিসাবে ওই অঙ্ক ছিল এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। তারও আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হয়। ওই সময় এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে।

এদিকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ চাঙ্গা থাকায় ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। জুন মাস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬.৪২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় চার হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে মজুদ এ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে সাড়ে ১১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।



সাতদিনের সেরা