kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

দেশে শতভাগ ডিজিটাল ব্যাংকিং চালুর স্বপ্ন কাজী আলমগীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে শতভাগ ডিজিটাল ব্যাংকিং চালুর স্বপ্ন কাজী আলমগীরের

কাজী আলমগীর, এমডি ও সিইও, বিডিবিএল

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে কন্ট্রাক্টলেস ব্যাংকিং তথা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ধারণা সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশও এতে পিছিয়ে নেই। সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) এমডি ও সিইও কাজী আলমগীর বিডিবিএলে যোগদানের পরই কন্ট্রাক্টলেস ব্যাংকিং তথা ভার্চুয়াল ব্যাংকিং চালু করার উদ্যোগ নেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পেপারলেস ব্যাংকিং ছিল আধুনিক ব্যাংকিংয়ের এক জনপ্রিয় ধারণা। যার ফলশ্রুতিতেই আজ বিশ্বব্যাপী ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড চালু ও জনপ্রিয় হয়েছে। এখন সময় এসেছে ভার্চুয়াল বা স্মার্ট ব্যাংকিংয়ের। এখন আর ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে, লোন পেতে, টাকা উত্তোলনে, রেমিট্যান্স পেতে মানুষকে ব্যাংকে আসতে হয় না।’

বাংলাদেশের ব্যাংকিং অটোমেশন ইতিহাসে ডিজিটাইজেশন ও অনলাইন বেইসড আধুনিক ব্যাংকিং সেবা চালুকরণের একজন অন্যতম স্থপতি হলেন কাজী আলমগীর। নব্বইয়ে দশকের শেষের দিকে ডাটা এন্ট্রির জন্য যখন সরকারি ব্যাংকে কম্পিউটার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন অনেকেই চাকরি হারানোর ভয়ে এর বিরোধিতা করেন। সেই সময় অগ্রণী ব্যাংকে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করে সরকারি ব্যাংকে ডিজিটাইজেশনের ফুটপ্রিন্ট স্থাপন করেন কাজী আলমগীর।

বিডিবিএলকে একটি আদর্শ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যে অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যারটি যুগোপযোগীকরণ, ই-জিপি, অটোমেটেড চালান সিস্টেম, ই-নথি, ডিজিটাল হাজিরা ও ই-মামলা পরিচালন সফটওয়্যার চালু করেছেন। এ ছাড়া বিডিবিএলের দেশব্যাপী উপশাখা চালু, ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম অগ্রণী ব্যাংকের ৯টি করপোরেট শাখায় লেনদেন ও আনুষঙ্গিক হিসাব ব্যাংকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে আইবিএম মিনি কম্পিউটারের মাধ্যমে ‘অগ্রণী সলিউশন’ নামে অনলাইন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ডেভেলপ ও চালু করেন। এ ছাড়া হেড অফিসের পেরোল, রিকনসিলিয়েশন, আইন বিভাগের মামলাসংক্রান্ত কাজ, স্টেশনারি, ফার্নিচারসহ অন্যান্য সেবা দ্রুত প্রদানের জন্য ইনহাউস সফটওয়্যার ডেভেলপ ও বাস্তবায়ন করেন।

শুধু অগ্রণী ব্যাংকেই নয়, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে ব্যাংকটিকে অটোমেটেড ব্যাংকে উন্নীত করেন। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) এমডি হিসেবে ব্যাংকটিতে ডাটা সেন্টার স্থাপন এবং অনলাইন সিবিএস বাস্তবায়ন করে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকে রূপান্তর করেন। এই অকৃত্রিম ডিজিটালবান্ধব পদক্ষেপের জন্য তিনি রাকাব বোর্ড থেকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব অ্যাক্সিলেন্স’ পুরস্কার লাভ করেন এবং অগ্রণী ব্যাংক পর্ষদ থেকেও প্রশংসিত হন। এ ছাড়া তিনি ২০২০ সালে ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রচারণা ও বাস্তবায়নের একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ পুরস্কার লাভ করেন।

কাজী আলমগীর বলেন, ‘সাবেক বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (বিএসবি) ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (বিএসআরএস) বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দুটি প্রতিষ্ঠান, যা তিনি নিজে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই দুটি প্রতিষ্ঠানকে রুগ্ণ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে ২০১০ গড়ে তোলেন বিডিবিএল।’

একজন মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও কেবল দুরদৃষ্টি আর ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা অনুধাবন করে কাজী আলমগীর সফটওয়ার প্রোগ্রামিংয়ে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এই বিষয়ে পরবর্তীতে তিনি পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন-কম্পিউটার সায়েন্স, সার্টিফাইট পেমেন্ট কার্ড ইন্ডাস্ট্রি সিকিউরিটি ইম্লিমেন্টার (সিপিআইএসআই), সার্টিফাইট ইনফরমেশন সিস্টেম অডিটর (সিআইসিএ), ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড (আইসিএমএস) সহ ব্যাংকিং সফটওয়ার প্রোগামিং সংক্রান্ত সকল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।



সাতদিনের সেরা