kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

লেবুর বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তা বাজারজাতকরণ নিয়ে

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেবুর বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তা বাজারজাতকরণ নিয়ে

কমলগঞ্জের একটি বাগান থেকে লেবু তুলছেন কৃষকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চলতি মৌসুমে লেবুর বাম্পার ফলনে চাষিরা আনন্দিত হলেও করোনায় বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় লেবুর ফলন দিন দিন বাড়ছে। করোনায় ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এই লেবুর চাহিদা রয়েছে বাজারে। তবে লেবুর দাম তুলনামূলক কম হলেও বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি কৃষকরা।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জে মাধবপুর, পতনউষার, শমসেরনগর, আলীনগর, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৪০ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ হয়েছে। এসব জমিতে ব্যক্তিগতভাবে বাগান গড়ে উঠেছে। সারা বছরই লেবুর ফলন পাওয়া যায় বলে এখানে লেবুর চাষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতিনিয়তই এখানে লেবু চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কৃষকরা ঠিকমতো পরিচর্যা করায় চলতি মৌসুমে লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্থানীয় নাগড়ার লেবু বাগানের মালিক সুব্রত দেবরায় জানান, কয়েক বছর ধরে কমলগঞ্জে ব্যাপক হারে লেবুর চাষ করেছেন চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগের আরো নজরদারি বৃদ্ধি পেলে বাড়বে চাষের পরিমাণ। মোটামুটি এ বছর লেবুর ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদাও ভালো। করোনাভাইরাসের কারণে উপজেলার বাইরে লেবু বাজারজাত করা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। যদি বাজারও ভালো হতো, তাহলে দামটা বেশি পাওয়া যেত। আরো কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভবান হওয়া যেত। বর্তমানে লেবু পাইকারি বাজারে হালিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে সাত-আট টাকা আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা। তবে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুশি।

আরেক লেবু চাষি পতনউষারের শাহেদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের এলাকার অন্য চাষিদের দেখে লেবুর চাষ শুরু করেছিলাম। এখন একটি বিশাল এলাকায় লেবুর বাগান করেছি। সঠিক পরিচর্যা করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের কারণে লেবু বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। বাজারে লেবুর চাহিদা থাকলেও দাম তুলনামূলক কম।’

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভালো ফলন হওয়ার কারণে লেবু চাষে আগ্রহী হয়েছেন চাষিরা। তা ছাড়া লেবু চাষে খুব একটা কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। বছরব্যাপী লেবুর চাষ হওয়ায় গাছের আগা মরা রোগের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। আমরা লেবু চাষের ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন।’

 



সাতদিনের সেরা