kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঘোষণা

বিনিয়োগে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি

জিয়াদুল ইসলাম   

১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনিয়োগে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি

দেশে করোনার আঘাত আসার আগে থেকেই বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ছে ধীরগতিতে। করোনা সংক্রমণের পর থেকে এই গতি আরো মন্থর হয়ে পড়েছে। নতুন ঋণের চাহিদা নেই বললেই চলে। এতে গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে করোনার মধ্যেও মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই আছে। স্থিতিশীল আছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারও। এসব বিবেচনায় নতুন অর্থবছরের জন্য সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি মাসের শেষের দিকে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, করোনাকালীন অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি দিতে হবে, যাতে টাকার অভাবে কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আটকে না থাকে। ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

প্রতিবছর মুদ্রানীতি প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়। তবে করোনার কারণে এবারও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনারসভার আয়োজন না করে মেইলে মতামত নেওয়া হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সর্বসাধারণের মতামত নেওয়া হয়। গত ১০ জুলাই ছিল মতামত দেওয়ার শেষ দিন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ মাসের শেষের দিকে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। আমরা সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়নে জোর দিচ্ছি।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমুখী হওয়া উচিত। তবে সমস্যা হচ্ছে এটা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গেল অর্থবছরে যে মুদ্রানীতি ছিল, সেটার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দিকে তাকালেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা সর্বনিম্ন।’

ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ কর্মকাণ্ড ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। শেয়ারবাজারে মোটামুটি স্থিতিশীল পরিবেশ থাকলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না। কাজেই বেসরকারি ঋণের প্রবাহ না বাড়লে বিনিয়োগ কিভাবে হবে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা কেমন করে হবে। এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর মুদ্রানীতিতে থাকা উচিত।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের রাজস্বনীতির সঙ্গে মুদ্রানীতির সমন্বয় করতে হবে। তা না হলে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে পদক্ষেপ থাকতে হবে। বাজারে টাকার প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে, যাতে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। তাই নতুন মুদ্রানীতির ভঙ্গিমা আরো সম্প্রসারণমুখী হওয়া দরকার। ছোটরা যেন ঋণ পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিতে নজর দিতে হবে, যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয় ও মানুষের কাজের সুযোগ বাড়ে।’

২০২০-২১ অর্থবছরের বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য ধরা হয় ১৪.৮ শতাংশ। গত মে পর্যন্ত বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭.৫৫ শতাংশ, যা স্মরণকালের সর্বনিম্ন। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরালো না হওয়াই এর কারণ। নতুন অর্থবছরে করোনা সংক্রমণ আরো বেড়েছে। কবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে কেউ বলতে পারছে না। তার পরও বেসরকারি ঋণ উৎসাহিত করতে ১৪ শতাংশের ওপর এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র। সেই সঙ্গে ব্যাপক মুদ্রার জোগানও ১৫ শতাংশের মধ্যে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকেও কম ঋণ নিয়েছে সরকার। গত মে পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র সাড়ে ২১ শতাংশ। চলতি মুদ্রানীতিতে পুরো অর্থবছরে সরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য ধরা আছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। 

বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলমান প্রেক্ষাপটে নতুন মুদ্রানীতির সম্প্রসারণমুখী হবে বলে আশা করছি। কারণ এখন যে অবস্থা তাতে সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়ন ছাড়া উপায়ও নেই।’



সাতদিনের সেরা