kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনায়ও পলিসি বেড়েছে পাঁচ বীমা কম্পানির

এ এস এম সাদ   

১৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায়ও পলিসি বেড়েছে পাঁচ বীমা কম্পানির

করোনা অতিমারির প্রভাবে বীমা খাতে নতুন ইস্যুকৃত পলিসির পরিমাণ কমেছে। ফলে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তা ছাড়া সরকারি জীবন বীমা করপোরেশনেরও নতুন ইস্যুকৃত বীমা পলিসির সংখ্যা কমেছে। তবে এই অতিমারিতেও নতুন ইস্যুকৃত পলিসির সংখ্যা বেড়েছে পাঁচটি জীবন বীমা কম্পানিতে। এগুলো হলো আলফা লাইফ ইনস্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স, ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্স ও পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্স।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য মতে, সরকারি এই সংস্থার ২০১৯ সালে নতুন ইস্যুকৃত পলিসির সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৯৭২ জন। আর ২০২০ সালে এই সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৬৭৪ জন। অর্থাৎ নতুন ইস্যুকৃত পলিসির সংখ্যা কমেছে ৫৮ শতাংশ।

আরেক স্বনামধন্য বীমা কম্পানি মেটলাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পলিসি কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে কম্পানিটির নতুন পলিসির সংখ্যা ছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৩ জন। ২০২০ সালে নেমে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ৭১ জন।

বীমা খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অতিমারিতে প্রায় ৯০ শতাংশ কম্পানির নতুন ইস্যুকৃত পলিসি সংখ্যা কমেছে। কারণ অতিমারির মধ্যে মানুষের আয় কমেছে। উদ্বৃত্ত অর্থও নেই। তাই অনেকে কম্পানির ২০১৯ সালের মতো নতুন ইস্যুকৃত পলিসির সংখ্যা বাড়েনি, বরং কমেছে। আলফা লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানির ২০১৯ সালে নতুন ইস্যুকৃত পলিসির সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৬ জনে। ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৯৭১ জনের। প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮৫ শতাংশ।

চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের ২০১৯ সালে ছিল পাঁচ হাজার ৪৮৭ জনের। ২০২০ সালে হয় ১০ হাজার ৪৪৬ জনের। প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪৭ শতাংশ। ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্সের ২০১৯ সালে এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৫ জন। ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৯১ জন। প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ। যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্সের ২০১৯ সালে তিন হাজার ৭৩৬ জন। আর ২০২০ সালে চার হাজার ৮৮৬ জনের। প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৪ শতাংশ।

পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্সের ১১ হাজার ৪৭০ জনের। আর ২০২০ সালে এসে দাঁড়ায় ১২ হাজার ২৬৮ জন। প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬.৫০ শতাংশ।

আইডিআরএর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, চার্টার্ড ইনস্যুরেন্স ও ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স অন্য কম্পানিগুলোর থেকে তাঁদের ব্যবসা কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ম মেনে করছে। তবে পদ্মা লাইফ ও যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্স অনেকটা নিয়ম-নীতি না মেনেই তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। কারণ পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্স এখনো বহুসংখ্যক বীমা দাবি পরিশোধ করেনি। এতে গ্রাহক সমস্যায় জর্জরিত। তবে আলফা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স নতুন বীমা কম্পানি। তাই গ্রাহক আস্থাবাজন কম্পানি মনে করলেও ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে আলফা ইসলামী বীমা খাতে কতটুকু নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে পারবে।

আইডিআরএর আরেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একটি লাইফ কম্পানি ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনা করছে কি না সেটা বোঝা যায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ারও প্রায় ১০ বছর পর। কারণ তখন বড় সংখ্যক বীমা দাবি পরিশোধ করতে পারছে কি না সেটা দেখলেই কম্পানির অবস্থা বোঝা যাবে। কারণ পদ্মা লাইফ ইনস্যুরেন্স সেই ২০০০ সালে লাইসেন্স পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের অসংখ্য বীমা দাবি অপরিশোধিত। প্রতিনিয়ত গ্রাহক এই কম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স একটি ভালো কম্পানি, সুনামের সঙ্গে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের নতুন ইস্যুকৃত পলিসি বাড়াই স্বাভাবিক। তবে যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্স ২০১৪ সালে লাইসেন্স পেলেও খুব সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে না। ২০২১ সালের রিপোর্ট বের হলেই তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব হবে।’

চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জিয়াউল হক বলেন, ‘গ্রাহককে সঠিকভাবে সেবা দেওয়ার কোনো রকমের বিকল্প নেই। সেই জায়গায় আমরা কাজ করেছি। আমরা সঠিকভাবে মানুষকে সেবা প্রদান করেছি। করোনার পর থেকেই ডিজিটালের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, “আমাদের একটি ওয়েব পোর্টাল আছে। গ্রাহক সেখানে তাঁদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। এতে গ্রাহকের কাছে বীমাসংক্রান্ত কাজকে আমরা সহজ করেছি। এ ছাড়া মাসদুয়েক আগে আমরা ‘চার্টার্ড প্রিয়’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছি। ফলে গ্রাহক পলিসি জমা দেওয়ার পর সেগুলোর সব তথ্য সেখানে জমা হয়। এভাবেই আমরা গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছি।”



সাতদিনের সেরা