kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মেহেরপুরের ‘চুলের ক্যাপ’ যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেহেরপুরের ‘চুলের ক্যাপ’ যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

মেহেরপুরে হেয়ার ক্যাপ তৈরির কারখানায় কাজ করছেন নারীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গড়ে উঠেছে পরচুলা বা হেয়ার ক্যাপ তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় কাজ করছেন শতাধিক দরিদ্র নারী ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী। টাক মাথার জন্য ব্যবহার করা এসব পরচুলা তৈরি করে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা আয় করছেন তাঁরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুজিবনগর উপজেলায় প্রায় ৮-১০টি হেয়ার ক্যাপ তৈরির কারখানা। সেগুলোতে কয়েক শ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী এ কাজে নিয়োজিত। তাঁদের হাতের কারিশমায় তৈরি হেয়ার ক্যাপ চীনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

প্রায় দুই মাস আগে মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ভবরপাড়া গ্রামের দিলীপ মল্লিক, সোনাপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তির উদ্যোগে গড়ে ওঠে পরচুলা বা হেয়ার ক্যাপ তৈরির কারখানা। সেখানেই এলাকার শত শত বেকার শিক্ষিত নারী খুঁজে পান বাড়তি আয়ের নতুন কর্মসংস্থান। তবে করোনাভাইরাসের কারণে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে এই শিল্পের কাজ। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখন সীমিত আকারে হেয়ার ক্যাপ তৈরির প্রশিক্ষণ চলছে। তাঁদের তৈরি করা হেয়ার ক্যাপ ঢাকার উত্তরার কিছু প্রতিষ্ঠান কিনে নিয়ে যায়। পরে তারা চীনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে।

স্থানীয়রা জানায়, এখানে এমন একটি কারখানা হওয়ায় গ্রামের অনেক গরিব পরিবারের মেয়েরা কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এমনকি যাঁরা লেখাপড়া করেন তাঁরাও এখানে কাজ করে তাঁদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরচুলা বা হেয়ার ক্যাপ তৈরি কারখানায় কাজ করেন মুক্তা খান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কারখানা হওয়ায় আমরা কাজ করে নিজেরা আয় করতে পারছি। বাবা বা স্বামীর কাছে হাত পাততে হচ্ছে না, যা রোজগার করছি তাই দিয়ে নিজেদের খরচ করেও সংসারের কাজে টাকা ব্যয় করতে পারছি।’

কলেজ শিক্ষার্থী দৃষ্টি মল্লিক ও ফারজানা খাতুন জানান, করোনার কারণে কলেজ বন্ধ। তাই অবসর সময়ে এই কাজ করি। চুল দিয়ে একটি ক্যাপ তৈরি করতে পারলে আমরা ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত পাই। একটি ক্যাপ তৈরি করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে।

ভবরপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য দিলীপ মল্লিক বলেন, ‘আমি প্রথমত কয়েকজনকে নিয়ে পরচুলা বা হেয়ার ক্যাপ তৈরির কাজ করতাম। কিন্তু আস্তে আস্তে অনেক মেয়ে কাজের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এখন আমার কারখানায় ৭০ জন নারী কাজ করেন।’ তিনি জানান, ঢাকার উত্তরার কিছু প্রতিষ্ঠান চুল দিয়ে যায় এই ক্যাপ তৈরি করার জন্য। আবার তাদের কাছেই এই ক্যাপগুলো বিক্রি করা হয়। পরে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এগুলো রপ্তানি করে।

সোনাপুর গ্রামের হেয়ার ক্যাপ কারখানার মালিক সোহরাব হোসেন জানান, দুই মাস আগে প্রথমে নিজের সংসারের কথা চিন্তা করে পরচুলা তৈরির কাজ নিয়ে আসি। বর্তমানে গ্রামের অনেক শিক্ষিত ও বেকার নারী আগ্রহী হয়ে উঠেছেন পরচুলা তৈরির কাজ করতে।

তিনি বলেন, ‘আমার কারখানায় ৪০ থেকে ৫০ জন মেয়ে কাজ করতেন। তবে করোনার কারণে আগের থেকে কাজ কমে গেছে। এই কাজের জন্য সরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে আরো বড় করা সম্ভব হতো। এতে গ্রামের আরো অনেক হতদরিদ্র নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো।’

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার বলেন, ‘মুজিবনগর উপজেলা বাংলাদেশের জন্য রোল মডেল। এখানে অনুকূল পরিবেশের কারণে দরিদ্র ব্যক্তিরা এ ধরনের কাজে নিয়োজিত হয়ে আয় করছেন।’