kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

৩০ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানোর রেকর্ড

নতুন উচ্চতায় চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন উচ্চতায় চট্টগ্রাম বন্দর

পণ্য ওঠানো-নামানোতে রেকর্ড গড়ে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর নতুন উচ্চতায় আসীন হয়েছে। চলতি অর্থবছর ২০২০-২১ এখনো শেষ হয়নি, তার আগেই কনটেইনার ওঠানো-নামানো ৩০ লাখ একক ছাড়িয়েছে এই বন্দর। অর্থবছর শেষে ওঠানো-নামানো ৩১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

২০২০ সালের মার্চ থেকেই দেশে কভিড মহামারির ধাক্কা শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে আমদানি-রপ্তানি দুটিই কমেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জিং এবং সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে সেই ধাক্কা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠে আগের অবস্থায় ফিরছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোতে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কভিড মহামারির মধ্যেই ৩০ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো সত্যি গৌরবের। কভিডের ধাক্কা কাটিয়ে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ এই রেকর্ড। এই অর্জন বন্দরের কর্মী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুফল। আমরা একে ধরে রাখতে চাই।’

বন্দরের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পণ্য ওঠানো-নামানো করেছিল; তখন ছিল কভিড মহামারির আগের সময়। সেই অর্থবছরে বন্দরে ২৮ লাখ আট হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে কভিড মহামারির ধাক্কা পড়তে শুরু করে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে লকডাউন শুরু হয়। এর পর থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোতে ধস নামে। লকডাউনের ফলে শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় সব দিকে স্থবিরতা নেমে আসে। বন্দরে দেখা দেয় ব্যাপক পণ্য ও জাহাজ জট। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে। সেই অর্থবছরে পণ্য ওঠানো-নামানো কমে ২৭ লাখ ৯৭ হাজার এককে নেমে আসে।

কভিড মহামারির সময়েই সরকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে শিল্প-কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বন্দরে জট কমে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর পর থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি দুটিই গতি পায়। এর সুফল মেলে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে। এই অর্থবছরের এখনো কয়েক দিন বাকি আছে তার আগেই পণ্য ওঠানো-নামানো আগের বছরকে ছাড়িয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই বলা যায় করোনা মহামারির মধ্যেই কারখানা-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করে দেওয়ার মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অর্থনীতির গতি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তখন যদি সেই সিদ্ধান্ত না আসত দেশের অর্থনীতি কোথায় থাকত ভাবলেই তো গা শিউরে ওঠে। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোতে আজকের যে সুফল দেখছি, সেটি সেই সিদ্ধান্তের সুফল।’

জিবিএক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, ‘বিশ্বব্যাপী কভিডের ধাক্কা কাটিয়ে যে কয়টি দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম অন্যতম।’

তিনি বলছেন, ‘এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসনীয়। এখনো আমরা দেখছি সিঙ্গাপুর, কলম্বো, এমনকি চীনের কয়েকটি বন্দরেও কভিডের কারণে শ্রমিক মিলছে না। আমরা কিন্তু সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছি।’



সাতদিনের সেরা