kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিলসের সংবাদ সম্মেলন

শ্রমিকের কর্ম ও সামাজিক সুরক্ষা উপেক্ষিত বাজেটে

পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইস তৈরিসহ দ্রব্যমূল্য বাড়ার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মহার্ঘ ভাতার ব্যবস্থা এবং সর্বজনীন পেনশন স্কিম করার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রমিকের কর্ম ও সামাজিক সুরক্ষা উপেক্ষিত বাজেটে

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট শ্রমিকবান্ধব নয়, বরং ব্যবসায়ীবান্ধব বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম খাত বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, কভিডের কারণে চাকরি হারিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বহু শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন। তাঁদের সহায়তায় সামাজিক সুরক্ষাসহ অন্য বিষয়গুলো বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বাজেট প্রক্রিয়ায় শ্রমিক প্রতিনিধির অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়নি।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বিলস সেমিনার হলে এবং ভার্চুয়ালি ‘২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর বিলসের সুপারিশমালা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিলসের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েলের সভাপতিত্বে এতে সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন বিলস উপপরিচালক (গবেষণা) মো. মনিরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা শ্রমজীবী মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইস তৈরির দাবি করেন। তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মহার্ঘ ভাতার ব্যবস্থা, একটি সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রণয়ন, শ্রমিকের পুনঃ কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের টিকা দেওয়ার জন্য একটি সম্পূর্ণ বাজেটীয় পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাকালে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিভিন্ন দাবি থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তা উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এ সময় শ্রমিকের আয় কমেছে। অনেক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। তাঁরা সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক শ্রমিক চাকরি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।’

স্বাগত বক্তব্যে বিলস মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কভিডের কারণে চাকরি হারিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বহু শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন, তাঁদের সহায়তায় সামাজিক সুরক্ষাসহ অন্য বিষয়গুলো বাজেটে থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তাসহ বাজেট প্রক্রিয়ায় শ্রমিক প্রতিনিধির অংশগ্রহণের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।’

নইমুল আহসান জুয়েল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট শ্রমিকবান্ধব নয়, এটি ব্যবসাবান্ধব বাজেট। তার পরও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বরাদ্দ নেই।’ তিনি বলেন, কভিডের কারণে কয়েক লাখ শ্রমিকের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। ডাটাবেইস না থাকার কারণে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রপ্তানিমুখী শিল্প-প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অর্থ সহয়তা দেওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিলস উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি কামরুল আহসান, বিলস সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিলস পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ ও নাজমা ইয়াসমীন, উপপরিচালক মো. ইউসুফ আল মামুন, এম এ মজিদ প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা