kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গ্রাহকের টাকা ফেরত দিচ্ছে তিতাস

সজীব আহমেদ   

২৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রাহকের টাকা ফেরত দিচ্ছে তিতাস

আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য রাজধানীর ৫৬ হাজার আবেদনকারী গ্রাহকের ডিমান্ড নোটের বিপরীতে নেওয়া প্রায় ৪১ কোটি টাকা আগামী মাসেই (জুলাই) ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত দিতে যাচ্ছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড। মাসের প্রথম সপ্তাহে গ্রাহকের তালিকা চূড়ান্ত করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাংকের মাধ্যমে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিতাসের এমডি আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ।

২০১৯ সালের মে মাসে সরকার নতুন সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করলে আবেদনকারীদের প্রায় ৪১ কোটি টাকা আটকা পড়ে। আবেদনকারীর এসব ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দিতে তিতাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে টাকা ফেরত দিতে তিতাসকে নির্দেশ দেয় জ্বালানি বিভাগ। এর চার মাস পর অর্থ ফেরত দিতে গত ২ মে তিতাসের ভিজিল্যান্স শাখার মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে তিতাস।

এই কমিটিকে ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করা এবং গ্রাহকের টাকা কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত দেওয়া যাবে—এসব বিষয়ে সুপারিশ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে তা নির্ধারণই করতে পারেনি তিতাস। এই বাস্তবতায় সম্প্রতি ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় জ্বালানি বিভাগ।

এ বিষয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী ইকবাল মো. নুরুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৫৬ হাজার গ্রাহকের ডিমান্ড নোটের প্রায় ৪১ কোটি টাকা আগামী মাসে ফেরত দেব। গ্রাহকদের ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তালিকা করা হচ্ছে, আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে তালিকাটি পাব। তালিকা হাতে পেলেই আগামী মাসের প্রথম দিকে আমরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেব এবং গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই ৫৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে কারো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, আবার কারোর নেই। যাদের নেই তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে সেই নাম্বার জমা দেবে। তবে আমরা আগামী মাস থেকেই টাকা দেওয়া শুরু করতে পারব।’

তিতাস সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে জ্বালানি বিভাগ এক আদেশে তিতাসকে দুটি বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। প্রথমটি হলো, যারা ডিমান্ড নোট পেয়ে টাকা জমা দেয়নি, তাদের আবেদন বাতিল করা। দ্বিতীয়ত, যারা টাকা জমা দিয়েছে, দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ করে তাদের সে টাকা ফেরত দেওয়া। প্রথমটি বাস্তবায়ন করলেও, দ্বিতীয় নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নতুন করে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই যারা ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েছিল তাদের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য গত ডিসেম্বরেই তিতাসকে ঠিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে গ্রাহকদের ডিমান্ড নোটের টাকা দ্রুত সময়ের মাধ্যমে দিতে বলেছিল জ্বালানি বিভাগ।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে গ্যাস সংকটের কথা বলে প্রথম দফা আবাসিক সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের শেষের দিকে ফের আবাসিকের সংযোগ চালু করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর জ্বালানি বিভাগ থেকে অলিখিতভাবে বিতরণ কম্পানিকে আবাসিকের নতুন আবেদন নিতে নিষেধ করে দেওয়া হয়। পরে ২০১৯ সালের ২১ মে লিখিতভাবে আবাসিক সংযোগ স্থগিত রাখার আদেশ জারি করা হয়। যদিও ২০১৩ থেকে ২০১৯ অবধি ডিমান্ড নোটের টাকা জমা নিয়েছে বিতরণ কম্পানিগুলো।



সাতদিনের সেরা