kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

বুড়িমারী স্থলবন্দর বেহাল

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বুড়িমারী স্থলবন্দর বেহাল

স্থলবন্দরের জরাজীর্ন ও খানাখন্দে ভরা রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাকের বিকল হয়ে পড়া নিত্য ঘটনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। করোনা পরিস্থিতিতে বুড়িমারী স্থলবন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় যেমন পিছিয়ে, তেমনি নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে এ বন্দরে শ্রমিক ও গাড়িচালকদের দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে। এর ফলে বন্দর এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ভাগাড়। এ ছাড়া আছে জলাবদ্ধতা, পণ্য রাখার শেডগুলোতে দুর্গন্ধ, ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল, ধুলাবালি রোধে পানি না দেওয়া, সড়কে গর্ত, ওয়ে ব্রিজে যানজট, শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগীসহ নানা রকমের ভোগান্তি।

বরাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম ও তারকা ট্রেডিংয়ের আমদানিকারক সাদিকুর রহমান মানিক জানান, স্থলবন্দরে প্রবেশের গেটের সামনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। ফলে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা গাড়ি গর্তে পড়ে টায়ার-টিউব ফেটে যায়। এসব বিষয়ে আমদানি- রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শ্রমিকরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ভারতের ভোটপাটি থেকে আসা ট্রাকচালক হিরেন রায় ও চ্যাংরাবান্ধা বন্দর থেকে পাথর নিয়ে আসা চালক শাহীন আলম বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দরের গেট থেকে শেডে প্রবেশের সড়কের বেহাল অবস্থা। খানাখন্দে ভরা। প্রায়ই ট্রাকের চাকা নষ্ট হয়ে বিকল হয়ে পড়ে। এতে অনেক সমস্যা হয়।

বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইয়ুব আলী সরকার বলেন, ‘রোদ উঠলে ধুলায় আচ্ছন্ন। সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা। দুর্গন্ধে কাজ করা যায় না। আমাদের অনেক কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উপপরিচালককে জানালে তিনি সমাধান না করে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।’ বুড়িমারী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সফর উদ্দিন বলেন, ‘বন্দরের শেডগুলো থেকে পণ্য লোড- আনলোড করা কষ্টকর। ভুসি, ভুট্টা, সয়াবিন ও মাছের খাদ্য পচেগলে গন্ধে শ্রমিকদের জীবন অতিষ্ঠ। শ্রমিকরা কি মানুষ না? বন্দরের পরিচালককে বললেও তিনি কর্ণপাত করেন না।’ বন্দরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, ‘আমরা তো এগুলো পরিষ্কার করতেছি। এত পরিমাণ মাল লোড-আনলোড হচ্ছে, বৃষ্টি-বাদল মিলে সব একাকার। প্রতিনিয়ত কাজ করছি। চেষ্টা করছি। ইদানীং খৈল, ভুট্টা বেশি আসছে। বৃষ্টিতে ভিজলে এগুলো গন্ধ ছড়ায়। কিছু মেরামত করা হচ্ছে। আর ম্যানহোলে ঢাকনা ছিল, তা ট্রাকের চাপে ভেঙে গেছে।’ 

এ ব্যাপারে কাস্টমস সহকারী কমিশনার (এসি) কেফায়েত উল্যাহ মজুমদার বলেন, ‘ব্যবস্থাপনার ব্যাপারগুলো বন্দর কর্তৃপক্ষ দেখে থাকে।’



সাতদিনের সেরা