kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

ছোটদের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকার আরেকটি প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছোটদের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকার আরেকটি প্রণোদনা

মহামারি করোনাভাইরাস ক্ষতি সামলে উঠতে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতে আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। প্যাকেজটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্রাইসিস রেসপন্স ফ্যাসিলিটি প্রজেক্ট (সিইসিআরএফপি)’। দুই হাজার ৫২০ কোটি টাকার এই প্যাকেজের অর্থ জোগান দিচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা এশীয় অবকাঠামো ও বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রগ্রামস বিভাগের মাধ্যমে এ প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বুধবার এ প্যাকেজ বরাদ্দের নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, এ তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর। সুদের হার ৪ শতাংশ; ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে (মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর) সুদের চার্জ নির্ধারিত হবে। এক বছরের বেশি সময়ের মহামারিতে যেসব ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের ঘুরে দাঁড়াতে এই তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হবে। নীতিমালায় বলা হয়, গত বছরের ১৩ এপ্রিল সরকার সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, সেটাকে অনুসরণ করেই এই নতুন প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হবে।

এ প্যাকেজের আওতায় ৫০ শতাংশ পুনরর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে তহবিল থেকে পুনরর্থায়ন সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কোয়ালিফাই হতে হবে। এ জন্য কয়েকটি ক্রাইটারিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সধারী হতে হবে। ন্যূন্যতম তিন বছরের কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সর্বশেষ দুই বছরের মুনাফায় থাকতে হবে। বিদ্যমান সিএমএসএমই প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে হবে। ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার ন্যূনতম হার অর্জন করতে হবে। খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। ক্যামেলস রেটিং সন্তোষজনক হতে হবে।

জানতে চাইলে সিইসিআরএফপি প্রকল্পের পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার ক্ষতি কাটাতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই প্যাকেজের আওতায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরর্থায়ন করা হচ্ছে। ওই তহবিল অনুসরণ করেই নতুন এ তহবিলের নীতিমালা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৫০ শতাংশ পুনরর্থায়ন সুবিধা নিতে পেরেছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন এ তহবিল থেকে তাদের বাকি ৫০ শতাংশ পুনরর্থায়ন সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়ার ফুলফিল করতে হবে।

এদিকে গত বছরের এপ্রিলে যে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছিল, সেই তহবিলের পুরোটা এখনো বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বারবার তাগাদা এবং কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও সেই ঋণ বিতরণ শেষ করা যায়নি। এ বিষয়ে গত ৩১ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবেলায় সরকার এখন পর্যন্ত এক লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৯টি তহবিলের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সম্পৃক্ত। তবে মোট ১২টি তহবিল বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার আকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকার তহবিল এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নের হার মোট প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হলেন ৯৫ হাজার ৭৩৩ জন গ্রাহক। কৃষি খাতের পাঁচ হাজার কোটি টাকা তহবিলের তিন হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, ঋণ পেয়েছেন দুই লাখ গ্রাহক।



সাতদিনের সেরা