kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

২১ পরচুলা কারখানায় দুই হাজার কর্মসংস্থান

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২১ পরচুলা কারখানায় দুই হাজার কর্মসংস্থান

দিনাজপুরে পরচুলা কারাখানায় কাজ করছে নারী শ্রমিকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরে ২১টি পরচুলা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। চীনা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা কারখানাগুলোতে কমপক্ষে দুই হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। মানসম্পন্ন কাজ ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চীন, জাপানসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশের ব্যবসায়ীরা দিনাজপুর থেকে চুলের ক্যাপ নিচ্ছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দিনাজপুরের এই কারখানাগুলোতে অন্তত ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান হবে। চীন, জাপান, ভারত, দুবাই, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে চুলের ক্যাপের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর, বিরামপুর উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর-৬ আসন। এই আসনের চারটি উপজেলায় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সহায়তায় গড়ে উঠেছে ১৫টি পরচুলা তৈরির কারখানা। কারখানাগুলোতে কাজ করছেন এক হাজার ৮০০ জন নারী শ্রমিক। যাঁরা সর্বনিম্ন আট হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। কাজ পেয়েছেন আদিবাসী এবং প্রতিবন্ধীরাও। এ ছাড়া সদর উপজেলার রানীগঞ্জ, কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের সুন্দইল ও বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ীতে, খানসামার প্ল্যান বাজার ও মণ্ডলের বাজারে দুটি পরচুলা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে।

দিনাজপুরে তৈরি পরচুলা বা চুলের ক্যাপ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এই ক্ষুদ্র শিল্পটি গ্রামীণ নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের নামিদামি তারকা এবং ধনী মানুষের মাঝে পরচুলার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশ্বে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরচুলা বা চুলের ক্যাপের বাজার। আর লাভজনক হওয়ায় উদ্যোক্তারা ঝুঁকছে পরচুলা তৈরির দিকে। ১৫টি পরচুলা তৈরির কারখানার সমন্বয়কারী মো. জামান বলেন, ‘ঢাকার উত্তরায় একটি পরচুলা কারখানা থেকে এই ধারণাটা পাই। চুল দিয়ে ক্যাপ বানাতে হবে—এই ধারণাটা এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছিল না। এই অঞ্চলের নারীদের কিভাবে কর্মমুখী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পরচুলা নিয়ে আলোচনা হয়। এগিয়ে আসেন সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক।’

তিনি আরো বলেন, ‘কাজ শিখতে একজন নারীর সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগে। কারখানাগুলোতে কাজ করে তারা ৮-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। বর্তমানে দুই হাজার শ্রমিক কাজ করছে, পরিকল্পনা রয়েছে আগামী এক বছরের মধ্যে কিভাবে ১০ হাজার নারী কর্মী তৈরি করে কাজে লাগাতে পারি।’

দিনাজপুর জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলী খান বলেন, ‘বেসরকারিভাবে উদ্যোক্তারা পরচুলা তৈরিতে বিচ্ছিন্নভাবে ভূমিকা রাখছে। পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এখানে কাজ করছে। এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো দিক। কিন্তু এটাকে সরকারি নজরদারিতে এনে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দরকার।’