kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

বিশ্বের ৪০তম ব্যয়বহুল শহর ঢাকা

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বের ৪০তম ব্যয়বহুল শহর ঢাকা

অর্থনৈতিক অবস্থানে পিছিয়ে থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় আর মূল্যস্ফীতিতে বিশ্বের অনেক শহরের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এ বছর বিশ্বের ৪০তম আর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের খেতাব পেয়েছে শহরটি। এ অঞ্চলে ঢাকার পরের অবস্থানে রয়েছে ভারতের মুম্বাই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্সার গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বের ব্যয়বহুল শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে।

‘মার্সার ২০২১ কস্ট অব লিভিং সিটি র‌্যাংকিং’ শীর্ষক এ জরিপে উঠে আসা ২০৯টি শহরের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র ঢাকা রয়েছে। ২০২০ সালে এ শহরের অবস্থান ছিল ২৬তম। সে হিসাবে এবার অবস্থান বদলেছে ১৪ ধাপ। একটি নির্দিষ্ট শহরে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের জন্য শহরটি কতটা ব্যয়বহুল, তার ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এবারের বৈশ্বিক তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে ৭৮তম অবস্থানে রয়েছে ভারতের মুম্বাই, ১১৭তম ভারতের নয়াদিল্লি, ১৪৮তম চেন্নাই, ১৭০তম বেঙ্গালুরু, ১৮১তম কলকাতা, ১৮৫তম শ্রীলঙ্কার কলম্বো, ১৯৯তম পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং ২০১তম স্থানে রয়েছে করাচি।

ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় ঢাকা উন্নত বিশ্বের অনেক শহরকেই পেছনে ফেলেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, শিকাগো, বোস্টন, ইতালির রোম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, সুইডেনের স্টকহোম, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট, নরওয়ের অসলো, রাশিয়ার মস্কো, স্পেনের মাদ্রিদ এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মতো শহরও রয়েছে।

এ তালিকা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে বসবাসের খরচকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে অন্য শহরগুলোকে তুলনা করা হয়েছে। এতে ২০০টি পণ্য বা সেবার দাম বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে বাসাভাড়া, খাবার, পোশাক, যাতায়াত, বিনোদনের খরচ। সিনেমা দেখার টিকিটের দামের পার্থক্য, এক কাপ চা ও কফির দাম, এক লিটার বোতলজাত পানি, পেট্রল ও দুধের দামের মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পণ্যের দাম মার্কিন ডলারের বিপরীতে একটি শহরে প্রচলিত মুদ্রার ওঠানামার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

এবারের তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে তুর্কমেনিস্তানের আশগাবাত। গত বছর শহরটি ছিল দ্বিতীয়। মার্সার ফ্রান্স গ্লোবাল মবিলিটি প্র্যাকটিস লিডার জ্যঁ-ফিলিপে সারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণেই আশগাবাত দ্বিতীয় স্থান থেকে এ বছর প্রথম স্থানে উঠে এসেছে।’

ব্যয়বহুল শহরের শীর্ষ দশের অর্ধেকের বেশি এশিয়ার। বাকি শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে হংকং, তৃতীয় লেবাননের বৈরুত, চতুর্থ জাপানের টোকিও, পঞ্চম সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, ষষ্ঠ স্থানে চীনের সাংহাই, সপ্তম সিঙ্গাপুর, অষ্টম সুইজারল্যান্ডের জেনেভা, নবম চীনের বেইজিং এবং দশম স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের বার্ন। কম ব্যয়বহুল শহরের দিক থেকে প্রথম স্থানে রয়েছে কিরগিজস্তানের বিশকেক, দ্বিতীয় জাম্বিয়ার লুসাকা, তৃতীয় জর্জিয়ার তিবলিসি, চতুর্থ তিউনিশিয়ার তিউনিশ এবং পঞ্চম স্থানে ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া। এবারের তালিকায় দেখা গেছে, আশগাবাতসহ অনেক শহরই করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক দুর্দশায় নিপতিত হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইসহ কিছু শহর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমেছে। ক্যারিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং মার্সার স্ট্র্যাটেজির প্রধান ইলিয়া বনিক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বসবাসের খরচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নতুন একটি জটিলতা তৈরি করেছে করোনা মহামারি। স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্র, নীতি শিথিলতা—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলেছে কভিড-১৯।’

এর আগে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি জরিপে ২০২১ সালের বাস অযোগ্য শহরের তালিকায় দেখা গেছে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ঢাকা। বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার নাম রয়েছে ১৩৭ নম্বরে।