kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

মিরাকেলে চাকরি হারিয়েছেন সহস্রাধিক কর্মী

অর্থসংকটে উৎপাদন ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থসংকটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানি মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে সহস্রাধিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। কম্পানির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এলেও কারখানা পুরোদমে চালু রাখতে সক্ষম হয়নি। চলতি মূলধন ঋণের অভাবেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

২০১৭-১৮ সালে কম্পানি রপ্তানি বাজার ধরতে বিএমআরইকরণ করে। তা করতে গিয়ে চলতি মূলধন ঋণসংকটে পড়ে যায়। বিসিআইসি ও কম্পানির লিয়েন ব্যাংকের নিকট ঋণ সহায়তা চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। বরং বকেয়া ঋণের টাকা ফেরত দিতে চাপ প্রয়োগ করে। উপায়ান্তর না দেখে উদ্যোক্তারা কম্পানিটির মালিকানা বদলের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭ অক্টোবর ২০১৯ সালে শেয়ার বিক্রির চুক্তিনামা করা হলেও নানা কারণে শেয়ার হস্তান্তর করা যায়নি।

এদিকে অর্থসংকটে থাকায় কম্পানিটির উৎপাদন ১০ শতাংশে নেমে আসে। নতুন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মেহমুদ ইকুইটিজ লিমিটেডের কর্ণধার ডা. এ কে এম শাহবুব আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা ব্যাংকের কাছে ৫৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৭২ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা চেয়েছেন। ব্যাংক এখনো সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তবে ব্যাংক রাজি হলেও পুনর্গঠিত ঋণ হিসেবে কিস্তি বাবদ যে অর্থ আসবে, তা পরিশোধ করাও কষ্টকর হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা যা আছে সে তুলনায় এর ঋণের পরিমাণ বেশি, তাই এই কারখানা থেকে ৯০ শতাংশ উৎপাদন অর্জন করেও লাভ করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে ভলিউম অর্ডার পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

কম্পানি সূত্র জানায়, কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ও বর্তমান যে অবস্থা তাতে সক্ষমতার ৯০ শতাংশ অর্জন করেও ঝুঁকিমুক্ত হওয়া যাবে না। কারণ করোনার কারণে বাইরের ক্রয়াদেশও কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশের মতো। বর্তমানে বিসিআইসিই একমাত্র স্থানীয় ক্রেতা। পাট মন্ত্রণালয়ের প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করায় স্থানীয় বাজারও সীমিত হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করে টিকে থাকার সুযোগও কমে গেছে। দক্ষ কর্মীবাহিনীরও অনেকে আর নেই। নতুন নতুন কারখানাও স্থাপিত হয়েছে। আবার কম্পানিটির শেয়ার ক্রেতাদের মিরাকেল বাদে আরো তিনটি কারখানা একসঙ্গে ক্রয় করেন। প্রত্যেকটি কারখানার বিভিন্ন ব্যাংকে আলাদা আলাদা মোটা অঙ্কের ঋণ আছে। গত দেড় বছরে শুধু মিরাকেলে ১০-১৩% উৎপাদন করতে পেরেছে। মেহমুদ ইকুইটিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কনসালট্যান্ট লিমিটেড, যার উভয়ের মালিক এ কে এম শাহবুব আলম। তাঁর আরো কয়েকটি কারখানা রয়েছে। যে কারণে অর্থ সংস্থানের অভাবে সবগুলো ম্যানেজ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ওগুলোসহ মিরাকেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ বলে জানান সংশ্লিষ্ট সূত্রটি। সূত্র জানায়, আর্থিক অসুবিধায় থাকলেও গত এক বছরে কম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বর্তমানে কম্পানির শেয়ার মূল্য ৩৪/৩৫ টাকায় ওঠানামা করছে।

গত ২০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে শেয়ারের মূল্য ছিল ১৩ টাকা ৫০ পয়সা। শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি আছে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরাও সন্দিহান। ২০০০ সালের এপ্রিলে ডিএসই ও সিএসইর তালিকাভুক্ত হয়।