kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

নিয়ন্ত্রণহীন ইজি বাইকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

বৈধতা না থাকলেও সারা দেশে চলছে ২০ লক্ষাধিক
খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিয়ন্ত্রণহীন ইজি বাইকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

মোটরযান আইন অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক অবৈধ। রাস্তায় চলাচলে এর বৈধতা নেই, এটি একটি অযান্ত্রিক বাহন। তবে পুরোদস্তুর যান্ত্রিক যানবাহন হিসেবে সারা দেশে বর্তমান ২০ লাখের বেশি ইজি বাইক চলাচল করছে। রাজধানী ঢাকার অলিগলিসহ আশপাশেও চলাচল করছে দাপটের সঙ্গে। এই ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই কমছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত এই গাড়িগুলো কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সুপারিশকৃত বা প্রত্যাশিতভাবে প্রস্তুত নয়। উপরন্তু সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান যেমন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিআরটিএ কর্তৃক পরীক্ষিত ও অনুমোদিত নয়। অনুমোদনবিহীন এই অযান্ত্রিক যানবাহনগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে স্থানীয় বিভিন্ন গ্যারেজে সংযোজন করে বিক্রি করা হচ্ছে এবং পরিণত হচ্ছে একটি বিপজ্জনক বাহনে। খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এই অনিরাপদ গাড়িগুলোতে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয় যাত্রীদের এবং যত্রতত্র দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। নির্মাণ ত্রুটির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

জানা যায়, সড়ক ও মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা সৃষ্টির জন্য হাইকোর্ট এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের আধিক্যে শহরের যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়কগুলো দখল করে রাখে ইজি বাইক। এর ফলে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সবাই ভোগান্তির শিকার হয়। মহাসড়ক, আন্ত জেলা সড়ক ও জেলা শহরের মধ্যে যত্রতত্র ইজি বাইক চলাচলের ফলে যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর এসব অবৈজ্ঞানিক ইজি বাইক। সঠিকভাবে এগুলোর ব্যাটারি চার্জ করা হয় না, চলে চোরাই বিদ্যুতের চার্জ দিয়ে, ফলে সরকারের বাজেটে একটা বিরূপ প্রভাব পড়ে। শহর ও শহরতলিতে কয়েক হাজার অবৈধ ইজি বাইক গ্যারেজ রয়েছে, এই গ্যারেজগুলোতে প্রতি মাসে কয়েক লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি হয়ে থাকে, এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার। প্রতিটি ইজি বাইকে ১২ ভোল্টের তিনটি হেভি ব্যাটারি থাকে এবং প্রতিদিন দুইবার করে চার্জ দিতে হয়। প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার ওয়াট হিসেবে পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ও বেকারত্ব কমাতে ইজি বাইকের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক আছে। তাঁদের অভিমত, দেশে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চালু আছে। দেশ এখন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এ অবস্থায় উন্নতমানের যানবাহন চালুর ব্যবস্থা করা উচিত। বর্তমানে এর রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, এটা চালু হওয়া উচিত।

এদিকে যাঁরা এই ইজি বাইক কিনছেন তাঁরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই গাড়িগুলোর জন্য নেই কোনো বিক্রয়োত্তর সেবা, কোনো ওয়ারেন্টি ও কোনো ওয়ার্কশপ নেই। শোরুম থেকে বের হলেই সব দায়দায়িত্ব ক্রেতার। খুচরা যন্ত্রাংশেরও অভাব রয়েছে। ধারদেনায় কেনা ইজিবাইক এখন গলার কাঁটা।