kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

স্বাস্থ্যবিধিকে আলাদা উপখাত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি

প্রস্তাবিত বাজেটে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হলেও সংক্রমণ ঠেকাতে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি উপখাত যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ায় তা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের যুক্তি, কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান-পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিশেষত পানি ও সাবানের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

গতকাল রবিবার ওয়াটারএইড, ইউনিসেফ, পিপিআরসি, ফানসা-বিডি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল, ওয়াশ অ্যালায়েন্স ও এমএইচএম নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব মতামত ব্যক্ত করেন বক্তারা।

সংবাদ সন্মেলনে মূল প্রবন্ধে অর্থনীতিবিদ এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসির) চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ওয়াশ খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা গতবারের তুলনায় কম। পাশাপাশি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে গ্রামাঞ্চল, চর, পার্বত্য অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার তুলনায় শহর ও মহানগরগুলোতে পূর্ববর্তী বছরগুলোর বরাদ্দের পরিমাণ বেড়েছে।’

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘২০২-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে উৎপাদিত স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর সমুদয় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর সরকারের ভ্যাট মওকুফের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য এখনই প্রয়োজন একটি পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার। এতে সরকারি এ মহতী ঘোষণার ফল কিশোরী ও নারী উভয়ই পেতে পারবে।’

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ ও ব্যয়ের ধারা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কিছুটা কমেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দকৃত ১২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা কমিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ওয়াশ বাজেট বরাদ্দের একটা বড় অংশই শহরাঞ্চলের দিকে ঝুঁকছে, যা মূলত শহরগুলোতে ওয়াসার বরাদ্দের কারণে হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চল ও দেশের দুর্গম এলাকাগুলো বরাদ্দের ক্ষেত্রে যথেষ্টই উপেক্ষিত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান বিচারে দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াশ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রয়েছে অসমতা।

সংবাদ সম্মেলনে চারটি সুপারিশ দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে : ১. ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ওয়াশ খাতের স্বতন্ত্র উপখাতগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধিকে একটি আলাদা উপখাত হিসেবে চিহ্নিত ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে পৃথক উপবিভাগীয় লাইন-আইটেম হিসেবে হাইজিনকে আলাদা করতে হবে। ২. গ্রাম ও শহরের মধ্যে এবং বিভিন্ন নগরীর মধ্যে বরাদ্দের ক্ষেত্রে যে বিপুল বৈষম্য আছে, তা দূর করতে ওয়াশ খাতের বরাদ্দের অগ্রাধিকার নির্ধারণে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।