kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

মৌসুম শেষের ৪৫ দিন আগেই পাস বন্ধ

মধু সংকটে লোকসানে মৌয়ালরা

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মধু সংকটে লোকসানে মৌয়ালরা

মৌসুমের শুরুর দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর সুন্দরবনে মধুর পরিমাণ এমনিতেই কম। তার ওপর মৌসুমের অর্ধেক সময় হাতে থাকতেই বন্ধ হয়ে গেছে পাস-পারমিট। ফলে গতবারের তুলনায় এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে মধু আহরণ। এমনকি খরচ ওঠেনি অনেকের। এতে চরম লোকসানে পড়েছেন মৌয়াল ও মধু ব্যবসায়ীরা।

তাই এ বছর পাইকারি ও খুচরা বাজারে মধুর দামও বেশি। গতবার খুচরা বাজারে প্রতি মণ মধু বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়। কিন্তু এবার সেখানে পাইকারিই বিক্রি হচ্ছে ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি মধু খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। তাই হাতের কাছে মধু থাকতেও সাধ্যের বাইরে দাম হওয়ায় মধুর স্বাদ গ্রহণ করতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে মৎস্য ও জলজ প্রজাতির প্রাণীর প্রজননের প্রধান মৌসুম। এ ছাড়া মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয় ১ এপ্রিল থেকে। চলে ৩০ জুন বা অতিরিক্ত ১৫ জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু প্রজননের কারণে ১৫ মে থেকেই সুন্দরবনে সব ধরনের পাস-পারমিট বন্ধ করা হয়েছে। ফলে মৌসুমের আরো ৪৫ দিন বাকি থাকলেও মধু আহরণে পাস দেওয়া হচ্ছে না। রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও কাঙ্ক্ষিত মধু না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৌয়ালরা।

খুড়িয়াখালী গ্রামের মৌয়াল মো. ওলিয়ার হাওলাদার জানান, তাঁর দলে ১১ জন কাজ করেছেন। পাস-পারমিটসহ সব মিলিয়ে ৩৮ দিনে তাঁদের খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তাঁরা মধু পেয়েছেন মাত্র ৬৫ কেজি। দলের একেকজন সদস্য ভাগে পেয়েছেন মাত্র ছয় কেজির মতো মধু। একই গ্রামের ইব্রাহীম ব্যাপারী জানান, তাঁর দলে সদস্য ১২ জন। মধু পেয়েছেন ৭০ কেজি। বিক্রি শেষে একেকজন লোকসানে রয়েছেন চার-পাঁচ হাজার টাকা।



সাতদিনের সেরা