kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

আলুবীজের কেজি সাড়ে ৩৭ টাকা করার দাবি

শ্রমিক এবং বালাইনাশকসহ প্রতি কেজি আলু উৎপাদন খরচ ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলুবীজের কেজি সাড়ে ৩৭ টাকা করার দাবি

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কাছে আলুবীজের ন্যায্য মূল্য দাবি করেছেন চুক্তিবদ্ধ কৃষকরা। এ ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া দাম কেজিপ্রতি ২২ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩৭ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ কৃষক ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সেখানে সংগঠনটির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘বিগত দিনে বিএডিসি আলুবীজের মূল্য উৎপাদন খরচের সঙ্গে ২৫ শতাংশ বাড়তি হিসাব করে ২০ থেকে ২২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। চলতি বছর আলুবীজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে কম হওয়ায়, অধিক শ্রমিক ও বালাইনাশক প্রয়োজন পড়ায় উৎপাদন খরচই প্রতি কেজি ৩০ টাকা দাঁড়িয়েছে। সেই হিসাবে এ বছর প্রতি কেজি আলুবীজের মূল্য হয় সাড়ে ৩৭ টাকা। কিন্তু গত ৫ এপ্রিল বিএডিসির বিজ্ঞপ্তিতে এ বছর আলুবীজের মূল্য এ-গ্রেড প্রতি কেজি ১৯ টাকা এবং বি-গ্রেড প্রতি কেজি ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ মে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ-গ্রেড প্রতি কেজি ২২ টাকা এবং বি-গ্রেড প্রতি কেজি ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা আমাদের লোকসানে ফেলেছে। এতে কৃষকদের খুবই হতাশায় ফেলেছে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আঁতাত ও ষড়যন্ত্র করে বিএডিসির সুনামকে নষ্ট করে বিএডিসি আলুবীজ শাখাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই বিএডিসির আলুবীজ শাখা ধ্বংস হয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোর হাতে চলে যাবে। আর আলুবীজ চাষিরা ব্যাপক লোকসানে পড়ে সর্বহারা হয়ে যাবে।

এ সময় তিন বছর ধরে বিএডিসির নিজস্ব খামারে উৎপাদিত ভিত্তি বীজের মান খারাপ হওয়ায় প্রত্যায়িত বীজের মানও খারাপ হচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আধুনিক দেশে পর পর তিন বছর ভিত্তি বীজের মান কিভাবে খারাপ হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সাধারণ কৃষকরা যখন আলুবীজ বপন করেন সে সময় বিএডিসির বীজ বাজারে আসে না। ব্র্যাকের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো সে সময় বাজারে বীজ বিক্রি করে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর বীজ বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর বিএডিসির বীজ বাজারে দেওয়া হয়। এতে বিএডিসির বীজ অবিক্রীত থেকে যায়। কার স্বার্থে এমনটা করা হচ্ছে?

সংবাদ সম্মেলনে চুক্তিবদ্ধ কৃষকের কাছ থেকে বিএডিসির আলুবীজ সংগ্রহের মূল্য সাড়ে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করাসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলো হলো, ভিত্তি বীজের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও আলুবীজের মূল্য নির্ধারণ কমিটিতে কমপক্ষে পাঁচজন কৃষক প্রতিনিধি রাখতে হবে; মামলা ও চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে কাউকেই বিএডিসি কোনো রকম হয়রানি করতে পারবে না; কৃষক ফোরাম পরিচালনায় বিএডিসির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী হস্তক্ষেপ করতে পারবে না; আলুবীজ সংগ্রহের সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে আলুবীজের সমুদয় মূল্য কৃষকদের পরিশোধ করতে হবে।