kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

চীনের তিন বন্দরে জাহাজজট

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায়

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের তিন বন্দরে জাহাজজট

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে কভিড সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় সেখানকার তিনটি সমুদ্রবন্দরে বড় ধরনের জাহাজজট দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৬৮টি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ ওই সব বন্দর জেটিতে ভেড়ার জন্য সাগরে অপেক্ষায় আছে। প্রতিদিন এই জাহাজজটের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।

জাহাজজটের কারণে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইনগুলো এসব বন্দর এড়িয়ে চলছে; এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সমুদ্রপথে বিশ্বের পণ্য সরবরাহ চক্রে। বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টশিল্পের কাঁচামাল, কাপড়, খাদ্যদ্রব্য এবং রাসায়নিক পণ্য এসব বন্দর থেকে জাহাজীকরণ হয়। কিন্তু জাহাজজটের কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনভাবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। একটি হচ্ছে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে, দ্বিতীয়ত, পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছাবে না; তৃতীয়ত, পণ্যের দাম বাড়বে এবং কারখানার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেটি রপ্তানিতেও গিয়ে পড়বে।

তিনি বলছেন, অনেক শিপিং লাইন এরই মধ্যে চীনের ওই তিনটি বন্দর এড়িয়ে চলছে। অনেকে সেই বন্দরমুখী বুুকিং বন্ধ করেছে। আবার আগে থেকে বুকিং থাকা পণ্য পার্শ্ববর্তী অন্য বন্দরে নিয়ে গিয়ে জাহাজীকরণ করছে। এর ফলে পাশের অন্য বন্দরগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে জুলাইয়ের শুরুতে।

ড্রিউরি শিপিং কনসালট্যান্টস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সাইমন হ্যানি বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গকে বলেন, চীনের প্রযুক্তি শিল্প কেন্দ্র শেনঝেন নগরীর ইয়ানতিয়ান বন্দর এলাকায় ভাইরাসের নয়া প্রাদুর্ভাবের কারণে এরই মধ্যে জলপথে পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক খরচ বেড়েছে। যে কারণে তিন সপ্তাহ ধরেই ১০ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে ড্রিউরির ওয়ার্ল্ড কনটেইনার ইনডেক্স- সূচক।

‘আমরা অনুমান করছি, তৃতীয় প্রান্তিকের রপ্তানির পিক সিজনের কারণে খরচের পরিমাণ আরো বাড়বে। তা ছাড়া পণ্য আসতে দেরি হওয়ায় বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় বাড়লে আমদানি ও রপ্তানিকারক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ জানান সাইমন।

চীনভিত্তিক শিপিং লাইনগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, সর্বশেষ সুয়েজ খালে জাহাজ দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল সমুদ্রপথে বিশ্বের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। এখন চীনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরে পণ্যজট তাদের উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে চীনমুখী ওই সব বন্দরে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস আছে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং কম্পানি মায়ের্কস লাইনের। শিপিং লাইনের বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ওই সব বন্দর থেকে পণ্য আনার শিডিউল ঠিক রাখতে পারছি না। সেখানকার বহির্নোঙরে অনেক জাহাজ পণ্য নিয়ে আটকে আছে। এই জাহাজজট কাটতে সময় লাগবে।’

তিনি যোগ করেন, চীন কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী সমুদ্রবন্দরে নিয়ে এসব পণ্য জাহাজীকরণ করতে চাইছে, কিন্তু সেখানেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আমরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে আছি।

চট্টগ্রাম থেকে চীনের নিমবো ও সাংহাই সমুদ্রবন্দরে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস আছে আরেক শীর্ষ শিপিং কম্পানি হুন্দাইয়ের। প্রতিষ্ঠানটির দেশীয় এজেন্ট কন্টিনেন্টাল শিপিংয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সার্ভিসে এর প্রভাব এখনো পড়েনি। ওসব বন্দরের চাপ আসছে কি না বোঝা যাবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে।’

উল্লেখ্য, আমদানি পণ্যের বেশির ভাগই চীননির্ভর। ফলে চীনের জাহাজজট দ্রুত না কাটলে বাংলাদেশের আমদানি, একই সঙ্গে রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই।



সাতদিনের সেরা