kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

দেশে কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে নীতিমালা চান উদ্যোক্তারা

যন্ত্রের দ্রুত মেরামত চান কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে নীতিমালা চান উদ্যোক্তারা

মে মাসের কোনো এক দিন। করিমগঞ্জের হাওরে আগাম বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করে। কৃষক খলিল মিয়া ধান কাটার শ্রমিক না পেয়ে নিজের আত্মীয়-স্বজন নিয়ে কোনোমতে তাঁর তিন একর জমির ধান কেটে শেষ করেন। কিন্তু কাটা ধান ওই সময় বাড়ি আনা সম্ভব হচ্ছে না দেখে কলিখোলা স্লুইস গেটের কাছে মাচায় আঁটি বেঁধে রাখেন পরে আনবেন বলে। কিন্তু দর্ভাগ্য খলিল মিয়ার, মাত্র পঁয়তাল্লিশ মিনেটের বাঁধ ভাঙা জোয়ারে সেই ধান পানিতে ভেসে যায়। সে বছর আর ধান তোলা হয়নি খলিল মিয়ার মতো হাজার হাজার কৃষকের। ২০১৭ সালের আগাম বন্যার সেই ভয়াবহতা দেখেছেন হাওরের কৃষক। একরের পর একর পাকা, আধাপাকা ধান তলিয়ে গিয়েছিল শুধু দ্রুত কেটে আনতে না পরার কারণে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের’ জাতীয় কর্মশালায় জীবনের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন খলিল মিয়া। তবে এখন সেই দুশ্চিন্তা নেই। এখন আগাম বন্যা হলেও দ্রুত মাঠ থেকে ধান তুলে আনার ব্যবস্থা আছে। কৃষির আধুনিকায়নের কারণে যন্ত্রের মাধ্যমে দিনের কাজ মাত্র এক ঘণ্টায় করা যাচ্ছে। তবে যন্ত্রের বিক্রয়োত্তর সেবাগুলো আরো দ্রুত করার দাবি জানান অন্য কৃষকরা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহর সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামসহ আরো অনেকে বক্তব্য দেন। কৃষিযন্ত্র তৈরি ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এ সময় বক্তব্য দেন।

কর্মশালায় মোটরসাইকেল ও অটোমোবাইল খাতের মতো দেশেই কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে নীতি সহায়তা চান এই খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, এই খাতে এখন দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক বিদেশি বিনিয়োগও আসছে। বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দেশে কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা থাকা জরুরি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তিন হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলীর ২৮৪টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে এবং যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর বোরো মৌসুমে ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় দ্রুততার সঙ্গে সফলভাবে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে চাই। বর্তমানে বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তা আমরা কমিয়ে আনতে চাই। এরই মধ্যে আমরা ইয়ানমার, টাটাসহ অনেক কম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অনুরোধ করেছি যাতে তারা বাংলাদেশে কৃষিযন্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করে।’ এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ এইচ আনসারী বলেন, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে যন্ত্রগুলো হস্তান্তরযোগ্য করতে হবে। মেশিনগুলো কেউ রিটার্ন করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও করতে হবে। সর্বোপরি বিক্রয়োত্তর সেবা বাড়াতে হবে।