kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

করোনাতেও মধ্যপাড়ায় প্রতিদিন ৩ শিফটে কাজ

১৪ বছর পর মুনাফায় এমজিএমসিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৪ বছর পর মুনাফায় এমজিএমসিএল

দীর্ঘ ১৪ বছর পর মুনাফার ধারায় ফিরেছে দেশের একমাত্র পাথর খনি মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি (এমজিএমসিএল)। নানা অনিয়মে দীর্ঘ ১২ বছর খনিটি লাভ করতে পারেনি। এই সময়ে খনিটির প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে দুই বছর ধরে মুনাফায় ফিরেছে এই খনি। এর মধ্যে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো লোকসানের কলঙ্ক ঘুচিয়ে লাভ করে ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এরপর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লাভের অঙ্ক বেড়ে গিয়ে ২২ কোটিতে উন্নীত হয়।

জানা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া এলাকায় ১২৮ মিটার গভীরতায় কঠিন শিলা আবিষ্কার করে। এরপর ১৯৯৪ সালের ২৭ মার্চ খনি উন্নয়নের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার মেসার্স কোরিয়া সাউথ কো-অপারেশন করপোরেশনের (নামনাম) সঙ্গে একটি চুক্তি করে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চুক্তির পর পর খনি উন্নয়ন নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে নামনাম। শেষ পর্যন্ত কয়েক দফা ব্যয় বৃদ্ধির পর ২০০৭ সালের ২৫ মে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন কাজ শুরু করে এমজিএমসিএল। শুরুতে প্রতিদিন এক শিফটে পাথর উত্তোলন ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন। ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর খনি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিষেবার জন্য বেলারুশ কম্পানি জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে এমজিএমসিএলের সঙ্গে জিটিসির ছয় বছর মেয়াদি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি কার্যকর হয়। জিটিসি ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে দেখা যায়, খনিটির বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অচল। এ অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায় খনির কাজ। এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে এবং খনির কাজে অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে খোদ এমজিএমসিএলের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

জানা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন হলেও ছিল না খনির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। এক পর্যায়ে খনিটি প্রায় কয়েক শ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধের উপক্রম হয়।

পাথর খনির ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিষেবায় নিয়োজিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) সূত্রে জানা গেছে, করোনা না থাকলে আগামী অর্থবছরে মুনাফা ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত; কিন্তু বিদ্যমান মহামারির কারণে এ সময়ে লাভের অঙ্ক অর্ধশত কোটি অতিক্রম করবে।

এদিকে করোনা মহামারিতেও শতাধিক বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অর্ধশত দেশি প্রকৌশলীসহ ৭৫০ জন দক্ষ খনি শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমানে মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র, পায়রা বিদ্যুেকন্দ্রসহ দেশের সব মেগাপ্রকল্পে পাথর সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমজিএমসিএলের নানা প্রতিবন্ধকতা, ড্রয়িং-ডিজাইন অনুমোদন না করা এবং মালপত্র ও যন্ত্রপাতি আমদানির অনুমতি না দিয়ে ৪৭ মাস বসিয়ে রাখা হয়েছিল জিটিসিকে। এমনকি তাদের পাওনা বিল পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল তিন বছর।

জিটিসি সূত্র জানায়, এসব কারণে তারা পুরো চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে খনির উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলন করতে পারেনি। এখন জিটিসি তিন শিফটে প্রতিদিন খনি থেকে পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। এটি খনির উৎপাদন ইতিহাসে নতুন রেকর্ড বলেও জানা গেছে।

প্রতিদিন তিন শিফটে পাঁচ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খনিটি চালু করা হয়েছিল সেটি অতিক্রম করে এখন এক দিনে তিন শিফটে ছয় হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন হচ্ছে। এটি আরো বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।

এমজিএমসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, করোনার কারণে উৎপাদনে থাকা পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ঠিকাদার কম্পানির বেশির ভাগ শ্রমিককে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। যার কারণে কয়লা খনি স্বল্প পরিসরে উৎপাদন চালু রেখেছে। সেখানে জিটিসি পুরোদমে উৎপাদন চালু রেখেছে।