kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

পিআইএফ ঋণে খেলাপি হলেই আর সুবিধা নয়

বিশ্বাসের ঋণ বা এলটিআর এখন থেকে পিআইএফ নামে অভিহিত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিআইএফ ঋণে খেলাপি হলেই আর সুবিধা নয়

বিশ্বাসের ঋণ বা লোন অ্যাগেইনেস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট (এলটিআর) এখন থেকে আমদানি-পরবর্তী অর্থায়ন বা পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিং (পিআইএফ) নামে অভিহিত হবে। একই গ্রুপভুক্ত বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেনাবেচাসহ স্থানীয় ঋণপত্রের পিআইএফ সুবিধা দেওয়া যাবে না। পিআইএফ ঋণ ওভারডিউ বা কিস্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে নতুন করে সুবিধা পাবেন না গ্রাহক। সেই সঙ্গে খেলাপি গ্রাহককে পিআইএফ সুবিধা প্রদান করা যাবে না। এ ছাড়া এই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত বাধ্যতামূলক। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আমদানি দায় পরিশোধে সহায়তা করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের এলটিআর ঋণ দিয়ে থাকে। নিয়ম হচ্ছে, আমদানিকারক বা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওই পণ্য বিক্রি করে ধীরে ধীরে ঋণ পরিশোধ করবে। এই ঋণের বিপরীতে জামানত থাকে না।

নতুন নীতিমালায় পিআইএফের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য বা ট্রেডিং পণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে সকল প্রকার ঋণ সুবিধা যেমন এলটিআর, এলএটিআর, এমটিআর ও এমপিআই যে নামেই বলা হোক না কেন—এসব ঋণ এখন থেকে বাংলায় ‘আমদানি-পরবর্তী অর্থায়ন’ এবং ইংরেজিতে ‘পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিং (পিআইএফ )’ নামে অভিহিত হবে।

ঋণের মেয়াদ, গ্রাহকের চাহিদা, সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকৃতি এবং উৎপাদন ও বিপণন চক্রের সঙ্গে সংগতি রেখে পিআইএফের মেয়াদ ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ দিন এবং শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের বেশি হবে না। নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন, ক্রেডিট রেটিং সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে ঋণপত্র (এলসি) স্থাপন এবং পিআইএফ সুবিধার অনুমোদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। ওই নীতিমালায় ঋণপত্র এবং পিআইএফ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জামানতের বিষয়টি সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। ঋণপত্র এবং পিআইএফের অনুমোদনের সীমা নির্ধারিত থাকতে হবে। কোনোভাবেই অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে না।

পিআইএফ ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণ হয়ে মেয়াদি ঋণে রূপান্তরিত হলে ওই ঋণকেও পিআইএফ হিসেবে গণ্য করতে হবে। আমদানি দায় পরিশোধে ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোনো কারণে ফোর্সড ঋণ সৃষ্টি হলে ওই ফোর্সড ঋণকেও (যে নামেই থাকুক না কেন) পিআইএফ ঋণপত্রের সীমার আওতায় প্রদত্ত সুবিধা হিসেবে গণ্য করতে হবে। কোনো গ্রাহকের অনুকূলে প্রদত্ত পিআইএফ সুবিধা ওভারডিউ হলে ওই গ্রাহককে নতুন করে পিআইএফ সুবিধা দেওয়া যাবে না। তবে নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো কারণে পিআইএফ সুবিধা ওভারডিউ হলে খেলাপি হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই গ্রাহককে পিআইএফ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই গ্রুপভুক্ত বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রসহ স্থানীয় ঋণপত্রের বিপরীতে পিআইএফ সুবিধা প্রদান করা যাবে না।