kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের খনন

নিজস্ব অর্থায়ন, খরচ কমবে অর্ধেক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজস্ব অর্থায়ন, খরচ কমবে অর্ধেক

সরকারের মেগাপ্রকল্পের মধ্যে একটি হলো পায়রা বন্দর। সেই পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের খননকাজ হবে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। এই প্রকল্পে সাশ্রয় হবে ৫৩ শতাংশ অর্থ। গতকাল রবিবার দেশের রিজার্ভের টাকায় প্রথম এই প্রকল্পের চুক্তি সই হয়েছে বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কম্পানি জেন ডি নুলের (জেডিএন) সঙ্গে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহনসচিব মো. মেজবা উদ্দিন চৌধুরী এবং বক্তব্য দেন পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর হুমায়ুন কল্লোল।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা স্বনির্ভর জাতি, আমাদের সম্পদ আছে, সম্পদের কোনো অভাব নেই। যেটার অভাব মাঝেমধ্যে হয় সেটি হচ্ছে সততা, দায়বদ্ধতা ও জাতির প্রতি দায়িত্বশীলতা। আমাদের মাটির দিকে তাকাতে হবে। নিজেদের নদীনালা, খাল-বিল, পাহাড় সবই নিজেদের আয়ত্তে আনতে হবে। বহিরাগত চিন্তার দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রীর সুদীর্ঘ চিন্তার ফলাফল এই পায়রা বন্দর। তিনি তাঁর মেধা দিয়ে এই জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বিশ্বের দরবারে। জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়বেন তিনি নিজ হাতেই। বিশ্বের দরবারে জাতিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করতে তিনি কাজ করছেন অবিরত।’ এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহ্‌মুদ চৌধুরী বলেন, ‘রিজার্ভের অর্থে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রথম এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী যে পেশার স্বাধীনতা দিয়েছেন তারই একটি উদাহরণ হচ্ছে আজকের চুক্তি। এই বন্দরটি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বখ্যাত বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কম্পানি জেন ডি নুলের সঙ্গে একটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তি করেছিলাম, যেখানে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী চুক্তির অর্থায়নের ধরন পরিবর্তন করে নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি সম্পাদন করার জন্য নির্দেশনা দেন। ফলে বিদেশি কম্পানি জেন ডি নুল জি-এর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। প্রকল্পের অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলো রেখে কার্যকরী আলোচনার ফলে প্রকল্পের ব্যয় কমে চার হাজার ৯৫০ কোটি দাঁড়ায়। অর্থাৎ ৫৩ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হয়।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, সুষম উন্নয়নে এই বন্দর বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কাজটি দ্রুত শেষ করতে হবে। দেশের সম্পদ কিভাবে কাজে লাগাতে হয় সেটি দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সবাই মিলে কাজ করায় প্রকল্পের কাজ ঠিক থাকলেও ব্যয় অনেক কমেছে। এটিও একটি উদাহরণ।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্টে প্রধানমন্ত্রী বন্দরটিতে জাহাজ চলাচলের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে, যা থেকে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।