kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

পর্যটনকেন্দ্র দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি টোয়াবের

পর্যটন খাতের সংকট উত্তরণের দিকনির্দেশনা নেই বাজেটে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর্যটন খাতের সংকট উত্তরণের দিকনির্দেশনা নেই বাজেটে

দেশের পর্যটন খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা ও ট্যুর অপারেটরদের বাঁচাতে পর্যটনকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্যবিধি ও এসওপি মেনে খুলে দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ সেভাবে না বাড়া, খাতটিকে আর্থিক সংকট থেকে বের করে আনার বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টোয়াবের পরিচালক মোহাম্মদ সাহেদ উল্লাহ। তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পর্যটন খাত। করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর দেশের পর্যটনশিল্প অভ্যন্তরীণ পর্যটনের মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টায় ছিল, কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পর্যটন আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

সাহেদ উল্লাহ বলেন, গত বছর করোনার কারণে পর্যটনের সঙ্গে জড়িতদের সবার ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু টোয়াব সদস্যদের ক্ষতি হয়েছে পাঁচ হাজার সাত শ কোটি টাকা। চলমান পরিস্থিতি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত হলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘পর্যটন এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০১৯ সালের জিডিপিতে পর্যটন ৪.৪ শতাংশ যোগ করেছিল। এ শিল্পে জড়িত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকেই হতাশ হয়ে অন্য ব্যবসায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা টোয়াবের পক্ষ থেকে গত বছর করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকেই ট্যুর অপারেটর ও পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত সবার জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে আসছি, যা আজও সফলতার মুখ দেখেনি। এমনকি সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কোনো ধরনের ব্যাংকঋণ পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজটে এই খাতে চার হাজার ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বাজেটের চেয়ে ৩৪৪ কোটি টাকা বেশি। আমি মনে করি, এই বরাদ্দ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য খুবই যৎসামান্য। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশের কথা বলেছেন; কিন্তু খাতটিকে আর্থিক সংকট থেকে বের করে আনার বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা খুঁজে পাইনি।’

টোয়াবের দাবিগুলো বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে করোনাভাইরাসের প্রভাবের থেকে দ্রুত উত্তরণে ও দেশের পর্যটনশিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য পর্যটন স্পটগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত খুলে দেওয়া, ট্যুর অপারেটরদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা, টোয়াব সদস্যদের জন্য পরবর্তী বছরের ট্রেড লাইসেন্স রিনিউয়াল ফি মওকুফ করা, টোয়াব সদস্যদের ও তাঁদের পরিবারের করোনার টিকা, পর্যটনশিল্পের বিকাশে পর্যটনের জন্য সরকারের কাছে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ের দাবি।