kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

ইআরএফ-বিসিসিসিআই ওয়েবিনারে বক্তারা

চীনের সঙ্গে এফটিএ এলডিসি থেকে উত্তরণে সহায়ক হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চীনের সঙ্গে এফটিএ এলডিসি থেকে উত্তরণে সহায়ক হবে

তৈরি পোশাকের বাজারেও চীন বড় আমদানি কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বিশ্ববাণিজ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করা গেলে সেই ধাক্কা সামলাতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ, কূটনৈতিক এবং বিশ্ববাণিজ্য বিশ্লেষকরা।

গতকাল বুধবার ঢাকায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড রিলেশনস ইন দি আফটারমান্থ অব দ্য কভিড-১৯ গ্লোবাল প্যানডেমিক’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা বলছে, ২০২৮ সালে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হবে। অন্যদিকে চীন এখনই বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি বর্তমান বৈশ্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। রপ্তানির পাশাপাশি চীনের আমদানি বাজারও বেশ বড়। সর্বশেষ বছরে দেশটি ২.৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার রপ্তানির বিপরীতে ২.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপুল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘চীন বৈশ্বিক বাজার থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে বাংলাদেশ এখন তার মাত্র ০.০৫ শতাংশ সরবরাহ করছে। এটি যদি ১ শতাংশে উন্নীত করা যায় তবে চীনের বাজারে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি সম্ভব।’

এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে ড. রাজ্জাক বলেন, ‘তৈরি পোশাকের বাজারের জন্য চীন একটি বড় আমদানি কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে। চীনে তৈরি পোশাকের বাজারে বর্তমানে ৭ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। যেখানে ভিয়েতনামের দখলে ১৯ শতাংশের বেশি। এখানে একটু নজর দিলেই বিশাল বাজার খুঁজে পাবে বাংলাদেশ।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘চীন ৯৭ শতাংশ পণ্য রপ্তানিতে ডিউটি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চলছে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালাছে। তা ছাড়া, বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

চীনের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এ সময় চীন-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়।  এরই মধ্যে উভয় দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা বেড়েছে।’

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কথা উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের বৃহৎ ব্যাবসায়িক অংশীদার। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের গত বছরের বাণিজ্য ছিল এক হাজার ২৯০ কোটি ডলার। এ সময় বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করেছে ৬০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে আমদানি করেছে এক হাজার ১৪৯ কোটি ডলার। বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটিত এক হাজার ২৩০ কোটি ডলার।’

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় গেস্ট অব অনারের বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের অ্যাম্বাসাডর লি জিমিং, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের অ্যাম্বাসাডর মাহবুব উজ জামান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী গোলাম মর্তুজা, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মো. সুলতান উদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা এবং ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভি।