kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

অর্থবছরের শেষ দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতি পূরণে জোর

ফারজানা লাবনী   

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থবছরের শেষ দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতি পূরণে জোর

চলতি অর্থবছরের গত ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রাজস্ব ঘাটতি ৪০ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষ হতে বাকি আছে আর দুই মাস। এই সময়ে ঘাটতি পূরণে নিয়মিত আদায়ের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বকেয়া আদায়ে জোর বাড়িয়েছে। বিশেষভাবে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর বড় অঙ্কের বকেয়ার একটি টাকাও পরিশোধ করছে না তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে এনবিআর। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনেককে এনবিআরে তলব করে বকেয়া পরিশোধে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের তলবে অনেকে নিজে আসছেন, অনেকে আবার প্রতিনিধি পাঠিয়ে কাজ সারছেন। একই সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইনের আওতায়ও রাজস্ব আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত আদায়ের পাশাপাশি বকেয়া আদায়ে জোর দেওয়ায় এনবিআর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন অর্থবছরের শেষ হিসাবে ঘাটতি থাকবে না।

এনবিআর সদস্য আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক ধারা ছিল। এতে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এনবিআর সারা বছরই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করেছে। শেষ দুই মাসে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছি। আশা করি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।’

গত বছরের মার্চে দেশে করোনাব্যাধির প্রকোপ শুরু হয়। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ছিল না। শিল্প খাতে লোকসান হতে থাকে। এতে সামগ্রিকভাবে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ধস নামে। গত অর্থবছরের শেষ হিসাবে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৮৫ হাজার কোটি টাকা। চলতিবারেও ঘাটতি রয়েছে। দেশে করোনারোধে টিকা এলেও করোনার প্রকোপ কমেনি, কবে কমবে তার নিশ্চয়তাও নেই। রাজস্ব আদায়ে বড় অঙ্কের ঘাটতির মুখে চলতি অর্থবছরের জানুয়ারিতে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে সংশোধন করে কমিয়ে তিন লাখ এক হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

গত এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৩৬ হাজার ২০৭ টাকা। এ সময়ে আদায় হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৭১ টাকা। এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি খাতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৭৮ হাজার ২০৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৪৪ কোটি সাত লাখ টাকা। স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ৮৬ হাজার ৯০০ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭৫ হাজার ২০ কোটি টাকার, আয়কর ও ভ্রমণ কর ৭১ হাজার ১০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৯ হাজার ৬০৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

এনবিআর কর্মকর্তাদের জোরালো পদক্ষেপের কারণে চলতি অর্থবছরের (জুলাই-মার্চ) গত ৯ মাসের তুলনায় (জুলাই-এপ্রিল) ১০ মাসে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের গত মার্চ পর্যন্ত এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। এ সময়ে আদায় হয় এক লাখ ৭৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। জুলাই-মার্চে ঘাটতি ছিল ৪৯ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। চলতি জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা।

বিড়ি-সিগারেট খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে এনবিআরের পাওনা পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। একইভাবে মোবাইল খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছেও সরকারের রাজস্ব পাওনা চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি ও সিরামিকস খাতেও এনবিআরের বড় অঙ্কের পাওনা আছে।

এনবিআরের কঠোর পদক্ষেপের কারণে মোট রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক ধারা থাকলেও এপ্রিল পর্যন্ত সিগারেট, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং মোবাইল খাতে ভ্যাট আদায় গত অর্থবছরের তুলনায় গড়ে ১৯ শতাংশ বেড়েছে। দেশের দুই বড় মাপের ক্লাব ঢাকা ক্লাব লিমিটেডের কাছে ৩৪ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রাম ক্লাবের কাছে ২০ কোটি টাকার রাজস্ব পাওনা রয়েছে এনবিআরের। এসব রাজস্ব আদায়েও চলছে জোর উদ্যোগ।

এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইনের (এডিআর) আওতায় আটকে থাকা মামলা নিষ্পত্তি করে অনাদায়ি রাজস্ব আদায়ে জোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক, আয়কর ও মূসক সংক্রান্ত ২৪ হাজার ৫৭২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা মামলার বিপরীতে অনাদায়ি আছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। চলতিবারে আয়করসংক্রান্ত মামলা এডিআরে নিষ্পত্তিতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৯৯৮টি। এতে জড়িত রাজস্ব ১০ হাজার ৭১৭ টাকা। ৫৯৭ জন আবেদনকারী বিভিন্ন শুনানি শেষে মামলা নিষ্পত্তিতে পরিপূর্ণ সম্মতি দিয়েছে। আংশিক সম্মতি দিয়েছে ১৫০ জন। ১৯৯ জন সম্মতি দেয়নি। ৫২ মামলায় শুনানি চলছে।



সাতদিনের সেরা