kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

দুই টন লিচু উৎপাদনের আশা মঙলবাড়িয়া গ্রামে

আছাদুজ্জামান খন্দকার, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই টন লিচু উৎপাদনের আশা মঙলবাড়িয়া গ্রামে

থোকায় থোকায় গোলাপি রঙের লিচু ঝুলছে বাগানে

পরিবারের চাহিদা মেটাতে একসময় বাড়ির আঙিনায় চাষ হতো লিচু। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ করছেন চাষিরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাওয়ায় গ্রামের শতভাগ মানুষই এখন লিচু চাষের সঙ্গে জড়িত। শুধু লিচু চাষ করেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে এ গ্রামের কয়েক শ মানুষ। গ্রামটি এখন লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিত। লাল ও গোলাপি রঙের লিচুতে পুরো গ্রামটি এখন রঙিন। থোকায় থোকায় বাহারি লিচু সবার মন কেড়েছে। সেই সঙ্গে লিচুর ম ম গন্ধ আর ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচির শব্দ এবং দর্শক-ক্রেতাদের পদচারণে গ্রামটি মুখরিত। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙলবাড়িয়া গ্রামের চিত্র এটি। উপজেলা সদর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পূর্ব দিকে এগোলেই এমন দৃশ্য নজরে পড়বে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রামেই বাড়ির আঙিনা এবং বাড়ির সামনের কাঁচা-পাকা সড়কের দুই পাশে সারি সারি লিচুগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকায় থোকায় রঙিন লিচু। নয়নাভিরাম এই লিচু পাখি ও শিশু-কিশোররা যাতে নষ্ট করতে না পারে সে জন্য গাছের নিচে বসে পাহারা দিচ্ছে অনেকে। আবার সড়কের দুই পাশে বসে লিচু বিক্রিও করছে খুচরা বিক্রেতারা। এমন সৌন্দর্যকে একটু উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় করছে গ্রামটিতে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর ধরে এ গ্রামে লিচু চাষ হচ্ছে। প্রথমে স্বল্পসংখ্যক চাষি বাড়ির আঙিনায় লিচু চাষ করলেও এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে এ গ্রামে চার হাজারেরও বেশি লিচুগাছ রয়েছে, যা থেকে প্রায় দুই মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক এসে গ্রামটিতে ভিড় করছে। শুধু তা-ই নয়, বাগান থেকেই তারা লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

লিচু চাষি মো. মোখলেছুর রহমান দাদা ভাই বলেন, ‘প্রতিবছরই যথাসময়ে লিচুগাছ পরিচর্যা দিয়ে ভালো ফলনের উপযোগী করা হয়। এ বছর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তাই বাগানটি এবার এক লাখ টাকা দাম করছেন ব্যাপারীরা।’

লিচু চাষি শামীম শাহ্ জানান, লিচুর ফলন কম হওয়ায় তাঁর বাড়ির আঙিনার ১৬টি লিচুগাছ এ বছর দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

লিচুর ব্যাপারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ার পরও ফলন খুব একটা খারাপ হয়নি। লিচু এখনো পুরোপুরি না পাকলেও ঈদের কারণে লিচু বিক্রি পুরোপুরি শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে ১০০ লিচু ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ তবে লিচুর দাম আরো বাড়বে বলে তিনি জানিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা