kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

অক্সিজেন জোগান দিচ্ছে চট্টগ্রামের ৪ শিল্প গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অক্সিজেন জোগান দিচ্ছে চট্টগ্রামের ৪ শিল্প গ্রুপ

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ও সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলায় এবং পাশের দেশ ভারতের পরিস্থিতি আমলে নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য শিল্প গ্রুপ। করোনা রোগীদের মূল সঞ্জীবনী ‘অক্সিজেন’ নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করেছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। এ লক্ষ্যে সারা দেশের সরকারি হাসপাতাল ও করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বিনা মূল্যে সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব শিল্প গ্রুপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আবুল খায়ের গ্রুপ, জিপিএইচ ইস্পাত, কেএসআরএম ও মোস্তফা হাকিম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গোল্ডেন ইস্পাত। এত দিন দেশের মেডিক্যালে অক্সিজেন সরবরাহ করত লিনডে ও স্পেক্ট্রা নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করা অক্সিজেন হাসপাতালে সরবরাহ করত প্রতিষ্ঠান দুটি। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করায় তাদের অক্সিজেনের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। নিজেদের সমস্যা সামাল দিতে না পারায় ইন্ডিয়া অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে লিনডে-স্পেক্ট্রা মেডিক্যাল অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যবস্থায়ও সংকট সৃষ্টি হয়। তাদের এই সংকট নিরসনে এগিয়ে আসে আবুল খায়ের গ্রুপ ও জিপিএইচ। লিনডে ও স্পেক্ট্রার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করছে এই দুটি শিল্প গ্রুপ। আবুল খায়ের গ্রুপ সরকারি উদ্যোগের সহযোগী হিসেবে সারা দেশের সরকারি হাসপাতাল ও করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় লিকুইড অক্সিজেন বিনা মূল্যে সরবরাহ করছে।

এদিকে ‘জীবিকার চেয়ে জীবন বড়, সবার উপরে মানুষ’—এ স্লোগানে জিপিএইচের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রথম ঢেউ সামাল দিতে জিপিএইচ সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এবারও মানুষের সঙ্গে আছি। সরকারের সহযোগী হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’ গত বছর করোনা মহামারির শুরুর পর ২০ জুলাই জিপিএইচ এক হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে হস্থান্তর করে।

লিনডে ও স্পেক্ট্রা নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে আমদানি করা অক্সিজেন হাসপাতালে সরবরাহ করত। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করায় ভারত অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে যেন সংকট তৈরি না হয়, তাই প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসে

গত বছর করোনার প্রথম ঢেউ চলাকালে ৪.৯ টন অক্সিজেন সরবরাহ করেছিল বলে জানিয়েছেন মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক সরওয়ার আলম। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবং জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায়ও আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া কেএসআরএম করোনা অতিমারিতে দেশের সাধারণ মানুষের অক্সিজেন প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করতে কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অল্প কিছুদিনের মধ্যে মেডিক্যাল অক্সিজেন উৎপাদনে যাবে। মেডিক্যাল অক্সিজেন প্লান্টের ইনচার্জ অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার সোহেল আকতার জানান, তাঁদের এই অক্সিজেন প্লান্ট অল্প কিছুদিনের মধ্যে চালু হবে। এই প্লান্ট চালু হলে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ সিলিন্ডার অক্সিজেন উৎপাদন করা যাবে।

লিনডে বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক হিউম্যান রিসোর্স সাইকা মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে অক্সিজেনের চাহিদা থাকে দৈনিক প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টন। করোনার কারণে এ চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টনের কিছু বেশি।’ তবে চাহিদা ওঠানামা করতে পারে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন দরকার হয় খুব বেশি। বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনের সরবরাহ আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিচ্ছে চট্টগ্রামের শিল্প গ্রুপগুলো। এর ফলে ভারত অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করলেও আমাদের অক্সিজেনের সংকট হয়নি। তবে ঈদ-পরবর্তী পরিস্থিতি কী হয় সেটা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’



সাতদিনের সেরা