kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

অভিযানের পরও লাগামহীন তরমুজের বাজার

সজীব আহমেদ   

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিযানের পরও লাগামহীন তরমুজের বাজার

সারা দেশে পিস হিসাবেই কেনাবেচা হতো মৌসুমি ফল তরমুজ। কৃষক পর্যায় থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত ছিল একই পদ্ধতি। এ বছর কৃষক থেকে পাইকার পর্যন্ত এই পদ্ধতি বহাল থাকলেও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দ্বিগুণ দামে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। তাঁরা কম দামে পিস হিসাবে তরমুজ কিনে বিক্রি করছেন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। এতে বড় আকারের (আট কেজি) একটি তরমুজ কিনতে ৪৮০ টাকার মতো লাগছে। অবশ্য ছোট আকারের তরমুজের দাম কমে এসেছে। তরমুজের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনা-সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে তরমুজ বাদই দিয়েছে। তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয় অভিযান। এ সময় ব্যবসায়ীদের নানা অঙ্কের অর্থ জরিমানাও করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পরও কেজি দরে আগের চড়া দামেই বিক্রি করা হচ্ছে তরমুজ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (গবেষণা ও আইন উপবিভাগ) মাসুম আরেফিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অন্য অভিযানের পাশাপাশি তরমুজের বাজারের দিকেও নজর রাখছি। আমাদের অভিযানে তরমুজের বাজার, বিশেষ করে সুপার শপে পরিবর্তন (কেজি দরে এখন আর বিক্রি করা হয় না) এসেছে। মূলত মৌসুমি বিক্রেতারা তরমুজের বাজার দখল করায় তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (বিচার শাখা) মো. আবদুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা তরমুজের বাজার পর্যবেক্ষণ করছি। যদি অভিযানের প্রয়োজন হয়, করব। আমরা এর আগে তরমুজের বাজারে অভিযান পরিচালনা করিনি।’  

গত মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা তরমুজ কেজি হিসাবে বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। ছোট আকারের কালো তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। তবে চার দিন পর গত শনিবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের তরমুজের দাম কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা টাকা কেজি দরে। আর বড় আকারের তরমজু আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের কালো তরমুজের দাম কিছুটা কমে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।  বিক্রেতারা বলছেন, গরমে চাহিদা বেড়েছে বলে এ বছর তরমুজের দাম বেশি। আড়ত থেকেই বেশি দামে কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।

কৃষকরা বলছেন, তাঁদের কাছ থেকে পিস হিসাবে তরমুজ কিনছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি বড় আকারের তরমুজ ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তাঁরা।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শফিউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, পাইকারিতে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করা হয় না। খুচরা ব্যবসায়ীরা পিস হিসাবে কিনে কেজি দরে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা করছেন। এসব বিক্রেতার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত লোক-দেখানো অভিযান পরিচালনা করেছেন। এখনো প্রতিটি খুচরা দোকানে আগের মতো চড়া দামেই কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। জোয়ারসাহারা বাজারের রাস্তার পাশে তরমুজ বিক্রি করেন মো. কিরণ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই থেকে তিন কেজি ওজনের তরমুজ ৪০ টাকা কেজি দরে আর পাঁচ কেজির বেশি ওজনের তরমুজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা।

কেজি হিসাবে নাকি পিস হিসাবে পাইকারের কাছ থেকে কিনেছেন—জানতে চাইলে কিরণ বলেন, ‘আমরা পিস হিসাবে কিনেছি। তবে সবাই এখন কেজি হিসাবে বিক্রি করছে। তাই আমিও কেজি হিসাবে বিক্রি করছি। তবে কেউ পিস হিসাবে কিনতে চাইলে তাঁর কাছে পিস হিসাবেই বিক্রি করি।’ ভাটারা থানাধীন দক্ষিণ কুড়িল এলাকার ফল বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বেশি দামে কেজি হিসাবে তরমুজ কিনে আনতে হয়। তাই বেশি দামে কেজি দরে বিক্রিও করতে হয়। বড় আকারের তরমুজগুলো ৫০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়, তার সঙ্গে আবার গাড়িভাড়া আছে, তাই ৬০ টাকা কেজির নিচে বিক্রি করলে আমাদের লস হয়ে যায়।’