kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

ব্যস্ততা নেই দরজিপাড়ায়

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরের পশ্চিম পাশের রেলপথের পূর্ব পাশেই গড়ে উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের কেনাকাটার জন্য হকার্স মার্কেট। আর এই হকার্স মার্কেটকে ঘিরে রেল লাইনের পশ্চিম পাশে কাপড় সেলাইয়ের সারি সারি মেশিন নিয়ে বসেছে দরজির দল। ঈদের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। তার পরও হকার্স মার্কেটে নেই দোকানিদের ক্রেতা সামলানোর ব্যস্ততা। আছে শুধু টুকটাক কেনাবেচা। বসে বসে অলস সময় কাটছে রেল লাইনের পশ্চিম পাড়েই বসা দরজিদের। জয়পুরহাটের রেল লাইনের পাশের এ মার্কেটের নাম কেউ বলে পুরাতন কাপড়পট্টি আবার কেউ বলে হকার্স মার্কেট। আর দরজিরা তাঁদের মার্কেটের নাম দিয়েছে কাটিং ফিটিং মার্কেট।

হকার্স মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন সদর উপজেলার টু-পাড়া গ্রামের রহিমা বেগম। তিনি জানান, তাঁর স্বামী চট্টগ্রামে কর্মস্থলে আছেন। তাই হকার্স মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছেন। নিজের জন্য শাড়ি আর বাচ্চাদের জন্য পাজামা-পাঞ্জাবি কিনেছেন। পারুলিয়া গ্রামের রেহেনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের জন্য এই মার্কেটই সুবিধা।’ তিনি বাচ্চাদের জামাকাপড় কিনেছেন। টু-পাড়া গ্রামের পলি বেগমের কথায় এটা গরিবের মার্কেট।

হকার্স মার্কেটে পুরনো বিদেশি শার্ট-প্যান্ট বিক্রি হয়, যা গরিব মানুষ কিনে কাটিং ফিটিং করা দরজির কাছে নিয়ে নিজেদের গায়ের মাপে তৈরি করে নেন। প্রতিদিন কাটিং ফিটিংয়ের কাজ করে দরজিদের দিনে যে আয় হয় তা দিয়েই চলে তাঁদের সংসার। কিন্তু লকডাউনের কারণে কোনো কাজ নেই। মার্কেটের দরজি আমিনুর রশিদ ডীপু জানান, প্রায় এক যুগ ধরে তিনি এখানে দরজির কাজ করছেন। দিনে তাঁদের যে কাজ হয় তাতে সংসার চলে কোনো রকমে। কিন্তু বর্তমানে যে অবস্থা তাতে সংসার তো দূরের কথা নিজের খাওয়া-খরচও জুটছে না। তিনি বলেন, ‘এ রকম অবস্থা আগে কখনো হয়নি।’