kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

দুই বছর আগেই ডিজিটাইজড সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা

সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল ২০২৩ সাল, চলতি জুনেই শতভাগ সম্পন্ন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই বছর আগেই ডিজিটাইজড সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণ এখন কম্পিউটার মাউসের মাত্র কয়েকটি ক্লিকের বিষয়। আগে যে ভাতা বিতরণ করতে মাসের পর মাস লাগত, হাজার হাজার কর্মীর লাখ লাখ শ্রমঘণ্টার ব্যস্ততা ছিল, এখন সেটি মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার।

গত রবিবারও প্রায় ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের কাছে মাত্র কয়েক মিনিটের প্রচেষ্টায় পৌঁছে দেওয়া গেছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতা। পুরো কাজটি করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর।

প্রতিবছর তারা প্রায় ৮৯ লাখ সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে এমন নানা ভাতা বিতরণ করে থাকে, যার মধ্যে সাড়ে ৮৮ লাখ জনকে চলতি জুনের মধ্যেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা যাচ্ছে। এরই মধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন হয়ে গেছে। ৫০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং তারা তাদের মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চার ধরনের ভাতা পেতে শুরু করেছে।

এই দফায় অক্টোবর ২০২০ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ভাতা পাচ্ছে সুবিধাভোগীরা। যারা এখনো অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেনি তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে অ্যাকাউন্ট খুলে জুনের মধ্যেই হালনাগাদ সব ভাতা বিতরণ করা হবে—এমনটাই জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তিন বছর আগে ক্যাশ ট্রান্সফার মডার্নাইজেশন নামে একটি প্রকল্প নেয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়, যেখানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়াকে ২০২৩ সালের মধ্যেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুলে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, সব সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হলেও এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজটি সম্পন্ন করা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কভিডের সময় দূরত্ব বজায় রেখে সরকারি সহায়তা বিতরণে এই পদ্ধতি খুবই কাজে লেগেছে। এ ক্ষেত্রে একদিকে যেমন সরকারের খরচ কমেছে, তেমনি আবার স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে সঠিক ব্যক্তিটির কাছে ভাতার অর্থ পৌঁছে যাচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে যে সাড়ে ৮৮ লাখ মানুষের কাছে ভাতা ডিজিটালি পৌঁছে যাবে তার মধ্যে ১২ লাখ ৩৭ হাজার জন এটি পাবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। কয়েক বছর ধরে তারা এভাবেই ভাতা পেয়ে আসছে।

সরকার থেকে ব্যক্তিকে বা জি-টু-পি পদ্ধতিতে যে ৭৬ লাখ ১৩ হাজার জন মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতা পাবে তার ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫৭ লাখ জন ভাতা পাচ্ছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে। আর ১৯ লাখ জন পাবে ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে।

সরকারি এই ভাতা ক্যাশ আউট করতে উপকারভোগীকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না। সরকার মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সেবা কম্পানিগুলোকে ভাতা বিতরণের জন্য প্রতি হাজারে সাত টাকা করে দেবে, অন্যদিকে এমএফএস কম্পানিগুলো ক্যাশ আউটের পুরো চার্জ যুক্ত করে সুবিধাভোগীকে পাঠাবে। ফলে সরকারি ভাতা ক্যাশ আউট করতে ভাতাভোগীকে কোনো অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না। চলতি অর্থবছর সরকার মোট চারটি কর্মসূচির আওতায় এই ভাতা প্রদান করছে, যেখানে সরকারের মোট বাজেট বরাদ্দ রয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। চারটি কর্মসূচির মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ব্যক্তির সংখ্যা ৪৯ লাখ, যেখানে সরকারের বরাদ্দ দুই হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাভোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৫০ হাজার। আর এখানে সরকারি বরাদ্দ এক হাজার ২৩০ কোটি টাকা। বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা প্রতিজনের জন্য মাসে সরকারি ভাতা বরাদ্দ ৫০০ টাকা।

১৮ লাখ জন অসচ্ছল প্রতিবন্ধীর জন্য সরকারি ভাতা বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ৬২০ কোটি টাকা। প্রতি মাসে একজন প্রতিবন্ধী সরকারি ভাতা পান সাড়ে ৭০০ টাকা করে।