kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

ছুটি নিয়ে মালিক-শ্রমিকের আঁতাত

৭০% মজুরি শোধ দাবি বিজিএমইএর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭০% মজুরি শোধ দাবি বিজিএমইএর

ঈদকে ঘিরে সাধারণ ছুটি তিন দিন থাকলেও কৌশলে মালিক-শ্রমিক আঁতাতে কারখানা ভেদে এবার শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় ছুটি ভোগ করবে। তবে এই আঁতাতকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে আজ সোমবার মজুরি পরিশোধের শেষ দিনে প্রায় শতভাগ কারখানা মজুরি পরিশোধে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন মালিকপক্ষ। তবে ৪০টি কারখানা নিয়ে ঝুঁকির আশঙ্কাও তাঁরা উড়িয়ে দেননি। আর বোনাস আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে পরিশোধের আশা উদ্যোক্তাদের।

গতকাল তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হাসান বলেন, করোনার কারণে ক্রয়াদেশ বাতিল, পণ্য জাহাজীকরণে বাধা এবং দেউলিয়াত্বের কারণে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পাওনা পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া বড় আশা ছিল সরকার করোনার প্রথম ধাপের মতো এবার প্রণোদনা দিয়ে পাশে দাঁড়াবে। সেটাও হয়নি।

গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, গার্মেন্ট খাতের ছুটি বাড়ানো নিয়ে গতকাল দিনভর নানা পর্যায়ে দর-কষাকষি হয়েছে। তবে এখানে শ্রমিকদের ছুটি, বেতন-বোনাস নিয়ে মালিকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কত শতাংশ বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে এর কোনো পরিসংখ্যান না দিলেও আজ প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে গতকাল শ্রম ভবনে মালিক-শ্রমিক এবং সরকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানান, ছুটি বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই, ছুটি তিন দিনই থাকছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ওভারটাইম করাবেন নাকি ছুটি দেবেন, সেটি মালিক ও শ্রমিকপক্ষ নির্ধারণ করবেন।

বিপ্লবী গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাহউদ্দিন স্বপন বলেন, বছরে স্বজনদের সঙ্গে দুবার ঈদে মিলিত হন শ্রমিকরা। সারা বছর কষ্ট করে মেশিন চালিয়ে কাজ করেন এই দিনে ছুটির আশায়। গ্রামে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করবেন। এবার করতে পারছেন না। ফলে মিরপুর ও কচুক্ষেতে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এটা বেড়ে গেলে সমস্যা হবে।

বিজিএমইএ সহসভাপতি এম এ মান্নান কচি বলেন, ৭০ শতাংশের বেশি কারখানায় এরই মধ্যে মজুরি হয়ে গেছে এবং ৮০ শতাংশ কারখানায় বোনাস হয়েছে। আমরা ছুটি বাড়াতেও প্রস্তুত। সরকার ছুটি বাড়ালে আমরা বাড়াব। একই কথা বলেন বিকেএমইএর সহসভাপতি হাতেম।

শ্রমিক নেতা তৌহিদুর হরমান বলেন, ‘আমরা ছুটি বাড়ানোর দাবিতে এখনো অনড়। সরকারের সিদ্ধান্ত শ্রমিকরা মেনে নেবে না। এ ছাড়া শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, মালিকরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ছুটি বেশি দিলে সেটি দিতে পারে। সেটি মালিক ও শ্রমিকদের ব্যাপার। আমরা যতটা জানতে পারছি, অনেক মালিক পাঁচ দিন, সাত দিন আবার কেউ ১০ দিনেরও ছুটি দেবেন।

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, বৈঠকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি কোনো শ্রমিক যাতে কর্মস্থল ত্যাগ না করে সে ব্যাপারে মালিক ও সরকারপক্ষকে সচেতন থাকতে হবে। ছুটি তিন দিনই থাকবে, তবে মালিকপক্ষ চাইলে সমন্বয় করে এক-দুই দিন ছুটি বেশি দিতে পারবে।