kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

এফবিসিসিআইতে এবারও সমঝোতার নির্বাচন

৭৮ পরিচালক সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

একক সভাপতি প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৭৮ পরিচালক সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে পরিচালকের পদ যতগুলো শেষ পর্যন্ত প্রার্থীও হয়েছেন ততজন। ফলে গতকাল বুধবার নির্বাচনে নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য ব্যবসায়ীদের আর ভোট দিতে হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এফবিসিসিআইকে বলা হয় ব্যবসায়ীদের পার্লামেন্ট। একটা সময় বেশ জাঁকজমকভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনটির নেতৃত্ব ঠিক করা হতো। বিগত কয়েক বছর ধরে এফবিসিসিআইয়ে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক ধারা বিনষ্ট করা হয়েছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হলো না। নির্বাচন ছাড়াই নির্বাচিত হলেন ৭৮ জন পরিচালক।

গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ৭৮ জনের নাম প্রকাশ করেছে গঠিত নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত পরিচালকদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ৭ মে এই পরিচালকরা সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং ছয়জন সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদ শেখ ফজলে ফাহিমের নেতৃত্বে বর্তমান পর্ষদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবে আগামী ২৫ মে।

এর আগে ২০২১-২৩ মেয়াদের এই নির্বাচনে গত ৩১ মার্চ পরিচালক পদে ৭৮টি পদের বিপরীতে ৮২ জন প্রার্থীকে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। এদের মধ্যে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে আক্কাস মাহমুদ ও আলীম জামান এবং চেম্বার গ্রুপ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আজিজুল হক ও গাইবান্ধার আবুল খায়ের মোরসালিন পারভেজ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

নির্বাচন বোর্ড সূত্র জানায়, এর মধ্যে মনোনীত পরিচালক পদে চেম্বার গ্রুপে ১৬টি ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ১৬টি পদের বিপরীতে ১৬ জন করে মোট ৩২ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। দুটি মনোনীত পরিচালক পদে প্রার্থী দেয়নি গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি-বায়রা। অন্যদিকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার জন্য চেম্বার গ্রুপের ২৩ পদের বিপরীতে ২৩ জন ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ২৩ পদের বিপরীতে ২৩ জন প্রার্থী হয়েছিলেন।

প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে একমাত্র সভাপতি প্রার্থী বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন ছাড়াও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে মনোনীত পরিচালক হয়েছেন এ কে এম সেলিম ওসমান এমপি, ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল, নজরুল ইসলাম মজুমদার, সৈয়দ সাদাত আলমাস কবির, এস এম সফিউজ্জামান, মো. আমিন উল্ল্যাহ, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, এ কে এম মনিরুল হক, মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী, আবু হোসাইন ভূঁইয়া রানা, খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলী খোকন, মুনির হোসেন ও আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল।

অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে যাঁরা পরিচালক হয়েছেন—আবু মোতালেব, রব্বানী জব্বার, খন্দকার মনিউর রহমান জুয়েল, জামাল উদ্দিন, মুনতাকিম আশরাফ, মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ, রাশিদুল হাসান চৌধুরী রনি, এম জে আর নাসির মজুমদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, এম এ মোমেন, হাবিব উল্লাহ ডন, শফিকুল ইসলাম ভরসা, আমিন হেলালী, হাফেজ হারুন, ড. ফেরদৌসী বেগম, আমজাদ হোসেন, নিজাম উদ্দিন রাজেশ, আসলাম সেরনিয়াবাদ, ড. কাজী এরতেজা হাসান, শাহিন আহমেদ, শমী কায়সার, আবু নাসের ও ড. নাদিয়া বিনতে আমিন।

অন্যদিকে চেম্বার গ্রুপ থেকে মনোনীত পরিচালকরা হলেন—জশোধা জীবন দেবনাথ, প্রীতি চক্রবর্তী, সেরনিয়াবাদ ময়নউদ্দিন আব্দুল্লাহ, নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ নুরুন নেওয়াজ, এ এম মাহবুব চৌধুরী, ড. মুনাল মাহবুব, আবুল কাশেম খান, নাজ ফারহানা, কাজী আমিনুল হক, সাইফুল ইসলাম, আমিনুল হক শামীম, মো. শামসুজ্জামান, মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, রেজাউল ইসলাম মিলন ও তাহমিন আহমেদ।

চেম্বার গ্রুপ থেকে যাঁরা পরিচালক হয়েছেন—হাসিনা নেওয়াজ, মাসুদুর রহমান মিলন, দিলীপ কুমার আগারওয়ালা, মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, রেজাউল করিম রেজনু, গাজী গোলাম আশরিয়া, গোলাম মোহাম্মদ, বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, সুজিব রঞ্জন দাস, ইকবাল শাহারিয়ার, আলী হোসেন, শাহ জালাল, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, তবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটু, মোহাম্মদ রিয়াদ আলী, খায়রুল হুদা চপল, খান আহমেদ শুভ, মুতাসিরুল ইসলাম, এস এম জাহাঙ্গীর আলম মানিক, এম এ রাজ্জাক খান, হুমায়ূন রশিদ খান পাঠান ও সালাউদ্দিন আলমগীর।

চেম্বার গ্রুপ থেকে মনোনীত পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আরো কাজ করতে পারতাম, কিন্তু করোনা মহামারির কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে আরো ভালো কাজ করতে পারব বলে আশা করি।’