kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

বিপণিবিতানে ভিড় বাড়ছে

সজীব আহমেদ   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিপণিবিতানে ভিড় বাড়ছে

কঠোর লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উপলক্ষে ১০ দিন ধরে মার্কেটগুলো খোলা হয়েছে। শুরুতে মার্কেটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকলেও গত তিন-চার দিন থেকে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বেচাকেনাও বেড়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীন বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতা। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকায় গত মঙ্গলবার রাজধানীর একাধিক মার্কেটে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়। তবে অভিযানের পরও মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখা গেছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, গুলশাল-১ ডিএনসিসি মার্কেট, বাড্ডার সুবাস্তু, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বেশ কয়েকটি মার্কেটেই কমবেশি ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। আর এই ভিড়ে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেকেই। ক্রেতারা গাদাগাদি করে একের পর এক দোকানে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছে। এখনো বেশির ভাগ মার্কেটে নেই জীবাণুনাশক টানেল, হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা। তবে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনার ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের চেয়ে তিন-চার দিন ধরে বেচাকেনা বেড়েছে। ক্রেতাদের ভিড় থাকায় সামাজিক দূরত্ব ঠিকভাবে মানা না হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের শতভাগ মাস্ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। গণপরিবহন কম থাকায় ক্রেতারা মার্কেটে আসতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বিকেলের দিকে প্রচণ্ড ভিড় থাকলেও সন্ধ্যার পর কিছুটা কমে যায় ইফতারের জন্য। এ ছাড়া রাত ৮টার পরে মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। তাই বিকেলে ক্রেতাদের ভিড়ের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা কঠিন হয়ে যায়। এ জন্য মার্কেট খোলার সময়টা যদি সরকার আরো কয়েক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেয় তাহলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্য সুবিধা হতো।

 

রাজধানীর নিউ মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা ক্রেতাদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করছেন। মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতেও দিচ্ছেন না তাঁরা। কিন্তু মার্কেটের ভেতরে ক্রেতাদের চাপ বেশি থাকায় একজন থেকে আরেকজনের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বেশির ভাগ দোকানের বিক্রয়কর্মীদের মাস্ক পরা দেখা গেলেও কিছু দোকানের বিক্রয়কর্মীদের মাস্ক ছিল থুতনিতে। নিউ মার্কেটের সামনের ফুট ওভারব্রিজের ওপর ও নিচে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ভিড়ের কারণে রাস্তায় যানজটও দেখা গেছে। নিউ মার্কেটের আজিজ ক্লথ স্টোরের বিক্রেতা নয়ন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামনে ঈদ, তাই কয়েক দিন ধরে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। আমরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকান খুলেছি। ক্রেতাদেরও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা মাস্ক ছাড়া কাউকে দোকানে ঢুকতে দিচ্ছি না। এখন বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা আরো ভালো হতো।’ গত মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে এই মার্কেটে ক্রেতা কমছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রেতা কমেনি। এখন দিন দিন ক্রেতা বাড়ছে। গণপরিবহন চালু হলে আরো বাড়বে।’

এই মার্কেটের রূপশ্রী পোশাকের দোকানের বিক্রেতা মো. রবিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। তবে গণপরিবহন না থাকায় এখনো অনেকেই আসতে পারছেন না মার্কেটগুলোতে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মহিলাদের পোশাক থ্রিপিস ও ওয়ান পিস।’

নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আদিত্য আহমেদ পলাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামনে ঈদ কিছু কেনাকাটা তো করতেই হয়। গত ঈদে কেনাকাটা করতে পারিনি লকডাউনের কারণে। তাই এবার আগেই কেনাকাটা করতে এসেছি। বিকেলে মার্কেটে ভিড় বেশি হয়, তাই দুপুরেই মার্কেটে চলে এসেছি।’

গাউছিয়া মার্কেটে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। এই মার্কেটে পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতা বেশি ছিল। মার্কেটের ভেতরে ভিড়ের কারণে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। মার্কেটে বেশির ভাগ ক্রেতা মাস্ক পরা থাকলেও বিক্রেতাদের অনেকের মাস্ক থুতনিতে নামানো ছিল। ক্রেতাদের চেয়ে বিক্রেতাদের মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা কম দেখা গেছে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে প্রবেশপথে টানেলের পাশাপাশি ক্রেতাদের তাপমাত্রা মাপা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করার ব্যবস্থা দেখা গেছে। এই শপিং মলের লুবনান পোশাক শোরুমের ম্যানেজার মীর মহসিন আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ঈদকে ঘিরে বেচাকেনা খুব ভালো। ক্রেতাদের ভিড় থাকায় সামাজিক দূরত্ব ঠিকভাবে মানা না হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের শতভাগ মাস্ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। দোকানে ক্রেতা এলেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছি। গেটে মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ক্রেতাদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।’

এদিকে গুলশাল-১ ডিএনসিসি মার্কেট, বাড্ডার সুবাস্তু শপিং মল ও যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করতে আসা লোকজনের ভিড় নেই। ঈদ সামনে রেখে যে সংখ্যক ক্রেতা আসার কথা, সেই তুলনায় তা কম। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাস্ক পরা ছিল।

গুলশাল-১ ডিএনসিসি মার্কেটের সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে যেভাবে মানুষ কেনাকাটার জন্য ভিড় করছে, তার অর্ধেকও আমাদের মার্কেটে আসছে না। কারণ এই মার্কেটে সব সময় উচ্চ পর্যায়ের মানুষজন কেনাকাটা করতে বেশি আসে। তারা করোনার ভয়েই বাসা থেকে বের হচ্ছে না এখনো।’ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান চালানোর চেষ্টা করছি। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতায় গত মঙ্গলবার অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাঁরা মাস্ক পরছেন না তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝানোর চেষ্টা করছি। মার্কেটে যারা মাস্ক পরেননি তাঁদের কাউকে কাউকে জরিমানা করেছি।’