kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

করোনায় ব্যাংক খাত

ব্যক্তি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে

জিয়াদুল ইসলাম   

৬ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যক্তি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে

সার্বিক ভোক্তা খাতে ব্যাংকের ঋণ বিতরণের পরিমাণও বেড়ে গেছে

মহামারি করোনায় মানুষের আয় কমে যাওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ঋণ করে সংসার চালানোর তথ্য বিভিন্ন সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে আগেই। এবার ওই সব জরিপের তথ্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া গেল ব্যাংকঋণের চিত্রেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে করোনার সময় ব্যাংকগুলো থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ব্যক্তি নিজ বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিপরীতে ঋণ নেওয়া ছাড়াও ব্যাংকে জমানো টাকার বিপরীতেও ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়িয়েছেন। এ সময়ে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট ও জমি ক্রয় ও ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার পরিমাণও বেড়েছে। এতে সার্বিক ভোক্তা খাতে ব্যাংকের ঋণ বিতরণের পরিমাণও বেড়ে গেছে।

সাধারণভাবে ভোক্তা ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হয়। ভোক্তা ঋণ বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অর্থনীতিবিদরা এই ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষে মত দেন। কয়েক বছর ধরেই ভোক্তা ঋণে খানিকটা কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে। তবে করোনার কারণে স্থবির অর্থনীতিতে চাহিদা ফেরাতে গত বছরের ২০ অক্টোবর ভোক্তা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে সব ধরনের অশ্রেণীকৃত ভোক্তা ঋণে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হতো, যা ওই সময় কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রভিশন সংরক্ষণে ছাড় দেওয়ার পর থেকে ভোক্তা খাতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সংসার চালানোসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ আগের চেয়ে করোনাকালে বেশি ঋণের চাহিদা করছে। আবার ব্যাংকগুলোও এখন ব্যক্তি ঋণসহ ভোক্তা খাতে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে করোনার কারণে স্থবির অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি করতে এ খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রভিশন সংরক্ষণে ছাড় দেওয়ার পর ব্যাংকগুলো ভোক্তা খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে শুরু করেছে।

গত ২২ এপ্রিল খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও খাদ্যগ্রহণে প্রভাব’ বিষয়ে এক জরিপে বলা হয়, করোনার কারণে দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। ৩৭ শতাংশের বেশি মানুষ এখন বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ করে সংসার চালাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যা দরিদ্র মানুষের জন্য বাড়তি ও অসহনীয় চাপ তৈরি করেছে। গত ২৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের এক খানা জরিপে বলা হয়, করোনা সংকটের সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬১ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়েছেন। সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ পরিবার। এ ছাড়া নিজের গবাদি পশু, সোনা ও জমি বিক্রি করে এবং এনজিও থেকে ঋণ করেও অনেকে জীবন ধারণ করছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক হাজার ৬০০ খানার ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

জরিপগুলোর সঙ্গে ব্যাংকের ঋণ বিতরণের চিত্রেও মিল পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, করোনার পর থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেশি বেড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, করোনার প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২০) তার আগের তিন মাসের চেয়ে সার্বিক ভোক্তা খাতে ঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় ৩.৮২ শতাংশ। অর্থাৎ ৭০ হাজার ৯৭০ কোটি থেকে ঋণ বিতরণ কমে নেমে আসে ৬৮ হাজার ২৫৪ কোটি টাকায়। কিন্তু ওই সময় নিজ বেতন হিসাব, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও জমানো টাকার বিপরীতে ঋণ নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ও পরিমাণ বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই তিন মাসে বেতন হিসাবের বিপরীতে এক লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৬ জন চাকরিজীবী ঋণ নেন চার হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। তার আগের তিন মাসে এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৭৮ জন চাকরিজীবী ঋণ নিয়েছিলেন চার হাজার ৩০২ কোটি টাকা। ওই সময় সঞ্চয়ী হিসাবের বিপরীতে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৮ জন ঋণ নেন চার হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা।



সাতদিনের সেরা