kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

বিশ্বে খুচরা বেচাকেনার ১৯% অনলাইনে ♦ বেশি ব্যবসা আলিবাবার

করোনায় ই-কমার্সে জোয়ার

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় ই-কমার্সে জোয়ার

করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে লকডাউন এবং পরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে ই-কমার্স ব্যবসা। অনলাইন খুচরা বিক্রয় বেড়েছে ব্যাপকভাবে। গতকাল সোমবার জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আংকটাড প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে খুচরা ব্যবসায় অনলাইন বিক্রয়ের শেয়ার ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯ শতাংশ।

‘এস্টিমেটস অব গ্লোবাল ই-কমার্স ২০১৯ অ্যান্ড প্রিলিমিনারি অ্যাসেসমেন্ট অব কভিড-১৯ ইমপ্যাক্ট অন অনলাইন রেটেইল ২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে বিশ্বে ই-কমার্স বেড়ে হয় ২৬.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০১৮ সালের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। এ সময় ব্যবসা থেকে ব্যবসা ও ব্যবসা থেকে ভোক্তা উভয় বিক্রি বেড়েছে, যা বিশ্ব জিডিপির ৩০ শতাংশ। বেশ কিছু দেশে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ই-কমার্স। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বোচ্চ বেড়েছে। এ দেশটিতে অনলাইন বাজারের শেয়ার ২০১৯ সালের ২০.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২০ সালে হয় ২৫.৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও ই-কমার্স খাতে কভিড-১৯-এর প্রভাব কেমন পড়েছে তার পুরো চিত্র বুঝতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে, কিন্তু ২০২০ সালে ই-কমার্সের বেশ কিছু খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ করা গেছে। প্রতিবেদনে সাতটি দেশের অনলাইন বেচাকেনার তথ্য নেওয়া হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের অনলাইন বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ হয় এই দেশগুলোতে। গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনলাইন বিক্রি বেড়েছে ৫৯ শতাংশ, ব্রিটেনে বেড়েছে ৪৬.৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩২.৪ শতাংশ এবং চীনে বেড়েছে ১৪.৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে চীনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা। গত বছর কম্পানিটি মোট এক হাজার ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজন। গত বছর কম্পানিটি ই-কমার্স ব্যবসা করে ৫৭৫ বিলিয়ন ডলারের, ২০১৯ সালে ছিল ৪১৭ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীনের জেডি ডটকম ২০২০ সালে ব্যবসা করে ৩৭৯ বিলিয়ন ডলারের, ২০১৯ সালে বিক্রি করে ৩০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। চতুর্থ স্থানে থাকা চীনের পিনদাওদো গত বছর ২৪২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করে, ২০১৯ সালে যা ছিল ১৪৬ বিলিয়ন ডলার। পঞ্চম স্থানে রয়েছে কানাডার শপিফি। ২০২০ সালে কম্পানিটি বিক্রি করে ১২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, ২০১৯ সালে বিক্রি করে ৬১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। 

ডিজিটাল অর্থনৈতিক সূচক অ্যাডবের এক জরিপে বলা হয়, মার্চে আমেরিকায় ই-কমার্স বিক্রিতে রেকর্ড হয়েছে। মার্চের এক মাসে আমেরিকানরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আট বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করেছে ই-কমার্সে। ২০২০ সালের ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইনে বেচাকেনা হয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। অ্যাডবের জরিপে আরো দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ৯ শতাংশ, জাপানের ৮ শতাংশ এবং ব্রিটেনের ১৫ শতাংশ ভোক্তা জানায়, ২০২০ সালের মার্চের আগ পর্যন্ত তারা অনলাইনে কোনো কিছুই কেনেনি। ফলে এ খাতে নতুন নতুন ভোক্তা যুক্ত হচ্ছে। রয়টার্স, ফোর্বস ম্যাগাজিন।