kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

লকডাউনেও নতুন মাইলফলক

পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৬%

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৬%

মহামারি করোনার কারণে এক বছর ধরেই তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আশানুরূপ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে গত মাসজুড়েই লকডাউনের বিধি-নিষেধ ছিল সারা দেশে। এ অবস্থার মধ্যেও এপ্রিল মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ খাতের ব্যবসায়ীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও সামনের মাসগুলোতে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। 

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.২৪ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে নিট পোশাকের রপ্তানি ১৫ শতাংশ বাড়লেও ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২.৭১ শতাংশ। এদিকে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে নতুন মাইলফলক দেখল বাংলাদেশ। গত মাসে ৩১৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৫০২.৭৫ শতাংশ বেশি।

অবশ্য এতে উচ্ছ্বসিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। কারণ করোনার প্রথম ঢেউয়ে গত বছরের এপ্রিলে পণ্য রপ্তানি বড় ধরনের হোঁচট খায়। রপ্তানি নেমে যায় ৫২ কোটি ডলারে। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পণ্য রপ্তানি। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও সেটি অব্যাহত আছে।

করোনার কারণে গত বছরের এপ্রিলে সাধারণ ছুটির কারণে বেশির ভাগ শিল্প-কারখানা তিন সপ্তাহের মতো বন্ধ ছিল। সে কারণে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। চলতি বছর করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিধি-নিষেধ আরোপ করলেও তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানার উৎপাদন চালানোর সুযোগ দেয়। তাই রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। যেহেতু গত বছরের এপ্রিলে রপ্তানি তলানিতে নেমেছিল, তাই এবার প্রবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া, যদিও ২০১৯ সালের এপ্রিলে ৩০৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। তার তুলনায় গত মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১.৬২ শতাংশ।

পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে ইপিবি। এতে দেখা যায়, তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াপণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি কমেছে। করোনার কারণে গত বছরের এপ্রিলে বেশির ভাগ শিল্প-কারখানা তিন সপ্তাহের মতো বন্ধ ছিল। সে কারণে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। তাই এবার প্রবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া।

সার্বিকভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) তিন হাজার ২০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮.৭৫ শতাংশ বেশি। এতে চলতি বছর টানা চার মাস পর ইতিবাচক ধারায় ফিরল পণ্য রপ্তানি আয়।

অবশ্য চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আরো ৮৯৩ কোটি ডলার প্রয়োজন। মে ও জুন মাসে এই পরিমাণ রপ্তানি অসম্ভব। কারণ গত ১০ মাস গড়ে ৩২০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। তার আগের বছর রপ্তানি হয়েছিল চার হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ১০৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০.৮৮ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ৯৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫৪ শতাংশের বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৭৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াপণ্য, ৪৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ৩৯ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়াপণ্যে সাড়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।



সাতদিনের সেরা