kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

আভা ফাউন্ডেশনের মানবতার গাড়ি

দৈনিক খাবার পাচ্ছে ২০০ জন

সজীব আহমেদ   

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দৈনিক খাবার পাচ্ছে ২০০ জন

আভা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিদিন সকাল থেকেই ব্যস্ত থাকেন রান্নায়। নিজেদের রান্না করা এসব সুস্বাদু খাবার বয়স্ক, সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল ২০০ মানুষের কাছে প্রতিদিন পৌঁছে দিচ্ছে আভা ফাউন্ডেশনের মানবতার গাড়ি। এই ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা এটির নাম দিয়েছেন ‘ইচ্ছা পূরণের গল্প’। প্রতিদিন তাদের হাতে খাবার দেওয়ার সময় জানতে চাওয়া হয় তাদের কী খেতে ইচ্ছা হয়। পরের দিন তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার রান্না করে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আভা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা চেষ্টা করেন দেশের নামিদামি রেস্টুরেন্টে তৈরি হয়, এমন প্রায় সব ধরনের খাবার তৈরি করতে। যেসব স্বেচ্ছাসেবক আগে কখনো চুলার কাছেই যাওয়ার সাহস করেননি, তাঁরাই এখন রান্না করে খাওয়াচ্ছেন বিরিয়ানি, পোলাও, ভুনা খিচুড়ি, ডিম খিচুড়ি, চিকেন রোস্ট, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন টিক্কা, চিকেন বার্গার, পিঠাসহ নানা ধরনের খাবার। এ ছাড়া, দুধ, ডিম, আপেল, কমলা, কলা, আঙুরসহ মৌসুমি বিভিন্ন ফলও সরবরাহ করা হয়। ময়মনসিংহে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই আভা ফাউন্ডেশন অবস্থিত। এই ফাউন্ডেশনে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক আছেন। তাঁদের বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তাঁরা খাবার সরবরাহ করেন মূলত ময়মনসিংহ রেলস্টেশন এলাকা, থানাঘাট, মালগুদাম, কৃষ্টপুর ও ত্রিশাল উপজেলায়। এসব খাবারের খরচ অনেকটাই বহন করে বিভিন্ন পেশার মানুষ। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম দেখে স্বেচ্ছায় ব্যক্তিগতভাবে অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকেন অনেকে।

আভা ফাউন্ডেশন ২০১৫ সাল থেকে ময়মনসিংহ শহরের বয়স্ক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রতি সপ্তাহে সরবরাহ করত নিজেদের রান্না করা খাবার। কিন্তু গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় দেশব্যাপী লকডাউন চলাকালে গরিব-অসহায়, ছিন্নমূল মানুষরা পড়ে চরম বেকাদায়। তখন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করতে হয়েছে তাদের। তখন কর্মহীন ও অসহায় এক হাজার ১০০ পবিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে আভা ফাউন্ডেশন। লকডাউনের কারণে যাতায়াত বন্ধ থাকায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার সরবরাহ করতে সমস্যায় পড়ে তারা। তখন এসব মানুষের মাঝে খাবার পৌঁছে দিতেই ব্যাটারিচালিত একটি গাড়ি কিনেছিল আভা ফাউন্ডেশন। গত বছর গাড়ি কেনার পর থেকেই প্রতিদিন ২০০ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন এই ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা। খাবার সরবরাহের পাশাপাশি ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ড্রিম স্কুল। শহরের মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসুস্থ মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং যাদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হয় তাদেরকে হাসপাতালে নিচ্ছেন তাঁরা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাত বছর ধরে বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। গ্রামীণ মানুষের পাঁচ টাকায় দিচ্ছেন ডিজিটাল সেবা।

আভা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ সজীব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমি দেখি রাস্তায় দাদা-দাদির বয়সের মানুষগুলো পড়ে আছেন, খাবার পাচ্ছেন না। বাসায় আমাদের দাদা-দাদিকে প্রায় সবাই জিজ্ঞেস করি কী খেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু রাস্তায় পড়ে থাকা এসব মানুষকে এ কথা জিজ্ঞেস করার মতো লোক নেই। আমার ইচ্ছা মৃত্যুর আগে অন্তত তাদের খাবারের ইচ্ছাটা পূরণ করা। এ কারণেই আমরা অসহায় ছিন্নমূল বয়স্ক মানুষদের তাদের পছন্দের খাবার দিচ্ছি। আগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বেশি খাবার দেওয়া হতো।’

তিনি বলেন, ‘করোনার আসার আগে আমরা তাদের সপ্তাহে এক দিন খাবার দিতাম। গত বছর প্রথম লকডাউনের সময় এসব মানুষ খাবারের খুব কষ্ট করেছিল। কারণ আমাদের ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ শহর থেকে ২০ কিমি দূরত্বে থাকায় খাবার সরবরাহ করতে খুব সমস্যায় পড়েছিল। তখন থেকেই নিজস্ব একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে ২০০ মানুষের কাছে প্রতিদিন খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। তাদের খেতে যা ইচ্ছা করে, সেই খাবার দেওয়ার চেষ্টা করে থাকি আমরা।’



সাতদিনের সেরা