kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

বাংলাদেশ নিয়ে এডিবির পূর্বাভাস

প্রণোদনার সুফলে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮%

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রণোদনার সুফলে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮%

বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সরকারের দেওয়া প্রণোদনা সুফলে করোনা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই দেশের প্রবৃদ্ধি আসবে ৬.৮ শতাংশ এবং ২০২২ অর্থবছরে তা আরো বেড়ে হবে ৭.২ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, বাড়ছে বাণিজ্য। এতে বাংলাদেশেরও রপ্তানি বাড়ছে, তাতে আরো সহায়ক হচ্ছে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, করোনা মহামারি কটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহের ফলে ভোক্তা ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও ঊর্ধ্বমুখী দেখা যাচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোতে ২০২০ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে রেমিট্যান্স এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে গড়ে ০.৭ শতাংশ করে। কিছু দেশে এই সময়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কিছুটা কমেছে। অথচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স এই সময়ে বেড়েছে ১৫.২ শতাংশ এবং পাকিস্তানের বেড়েছে ১৬.৬ শতাংশ।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত এডিবির ফ্ল্যাগশিপ অর্থনৈতিক প্রকাশনা ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) ২০২১’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং করোনার টিকা প্রদানে অগ্রগতির ফলে এই বছর ঘুরে দাঁড়াবে এশিয়ার অর্থনীতি। ২০২০ সালে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ০.২ শতাংশ সংকোচিত হলেও এ বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৩ শতাংশ। এর পাশাপাশি ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ৬.০ শতাংশ সংকোচিত হলেও এ বছর এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে জোরালো প্রবৃদ্ধি হবে দক্ষিণ এশিয়ায়। ২০২১ সালে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি হবে ৯.৫ শতাংশ এবং ২০২২ সালে কমে হবে ৬.৬ শতাংশ। এই সাফল্যের পুরোভাগে থাকবে ভারত। দেশটির অর্থনীতি ২০২০ সালে ৮.০ শতাংশ সংকোচিত হলেও ২০২১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আসবে ১১ শতাংশ এবং ২০২২ সালে আসবে ৭ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ২০২১ সালে আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধি আসবে ৩.০ শতাংশ, মালদ্বীপের ১৩.১ শতাংশ, নেপালের ৩.১ শতাংশ, পাকিস্তানের ২.০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ৪.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসবে। তবে এ বছর ভুটানের অর্থনীতি ৩.৪ শতাংশ সংকোচিত হবে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বাড়লে এবং টিকাদানের গতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ানো না গেলে অঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়ানো যে কঠিন হবে, সে কথাও এডিবি মনে করিয়ে দিয়েছে।

এডিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াসুকি সোয়াদা বলেন, ভারত যে গতিতে টিকাদান চালিয়ে নিচ্ছে, তাতে আগস্টের মধ্যে সেখানে ৩০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ২০২২ সালেই হয়তো ভারত ‘হার্ড ইমিউনিটিতে’ পৌঁছে যাবে। 

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশ সরকার ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও মহামারির বাস্তবতায় পরে তা ৭.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। মহামারির ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশে নেমে আসে, যা আগের অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ ছিল।

চলতি মাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়, রপ্তানি সাফল্য, জোরালো রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং চলমান টিকা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়ে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনও (এসক্যাপ) তাদের এক পূর্বাভাসে জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭.২ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা