kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

সুদের হার ১ শতাংশ কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রাক-জাহাজীকরণ প্রণোদনার ৯৫ শতাংশই পড়ে আছে

জিয়াদুল ইসলাম   

২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রাক-জাহাজীকরণ প্রণোদনার ৯৫ শতাংশই পড়ে আছে

প্রাক-জাহাজীকরণ খাত ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে হতাশার চিত্র বিরাজ করছে। গত এক বছরে এই তহবিল থেকে মাত্র ২২৩ কোটি টাকা বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকগুলো। ফলে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সাড়ে ৯৫ শতাংশ অর্থই পড়ে আছে। করোনার কারণে রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়া ও সুদের হার বেশি হওয়ার কারণে এই তহবিল থেকে আশানুরূপ ঋণ বিতরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পাশাপাশি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণে অনাগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে দেরিতে হলেও এ তহবিলের ঋণের সুদের হার ১ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে গ্রাহকরা এই তহবিল থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন।

করোনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় গত বছরের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন সময় ২১টি প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন খাতে এক লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এর মধ্যে রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাক-জাহাজীকরণ খাতে ঘোষিত পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন তহবিল ছিল অন্যতম। গত বছরের ১২ এপ্রিল এই তহবিল গঠনের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যেকোনো খাতের রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের আওতায় ঋণ পাবে। নীতিমালায় গ্রাহক পর্যায়ে এই তহবিল ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয় সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ২২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে। ফলে ঋণ বিতরণ বাকি আছে চার হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা। এটি মোট বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৯৫ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ব্যাংক এই তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এর মানে ব্যাংকগুলোও এই তহবিল থেকে ঋণ বিতরণে আগ্রহী নয়।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই তহবিলের ঋণ চাহিদা কম হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল বেশি সুদ। এ ছাড়া ব্যাংকগুলো থেকেও ঋণ বিতরণে অনীহা রয়েছে। সব মিলে ঋণের চাহিদা কম হয়েছে। এখন সুদের হার কমানোর ফলে ঋণের চাহিদা বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রি-শিপমেন্ট ঋণের বিষয়টি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু করোনার কারণে রপ্তানি কমে গেছে। ফলে প্রি-শিপমেন্টও হয়নি। ফলে ঋণের চাহিদা কম হয়েছে। ঋণ বিতরণে ব্যাংকের অনাগ্রহ রয়েছে—উদ্যোক্তাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তেমনটি আমার মনে হয় না। উদ্যোক্তারা ঋণের চাহিদা করলে ব্যাংক থেকে ঋণ না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’

এদিকে ঋণের চাহিদা না থাকায় এক বছর পরে এসে এই তহবিলের ঋণের সুদের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রেখে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনার লক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন তহবিল সুবিধা প্রদান করা হয়। এ তহবিল হতে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। আর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ দিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩ শতাংশ সুদে তহবিল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত হয়। এখন এই তহবিলের আওতায় স্বল্প সুদে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে রপ্তারি খাতে অধিকতর প্রবৃদ্ধি অর্জন করার লক্ষ্যে গ্রাহক ও ব্যাংক পর্যায়ে সুদহার হ্রাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে এই তহবিলের সুদের হার হবে ৫ শতাংশ। আর বাণিজিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এই তহবিল পাবে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ সুদে। 

বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় তিন বছর। তবে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে একাধিকবার ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। যেকোনো খাতের রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই তহবিল উন্মুক্ত। ঋণ বিতরণের বিষয়টি ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের আলোকে কেস টু কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শিডিউল অব চার্জেস নীতিমালার বাইরে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করা যাবে না।



সাতদিনের সেরা