kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

মহামারিতে পোশাক রপ্তানি নিয়ে সংলাপ

ঠেকেও শেখেননি মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠেকেও শেখেননি মালিকরা

মহামারি করোনার মধ্যে তৈরি পোশাকের বৃহৎ ক্রেতা দেশগুলো গুটিকয়েক দেশ থেকেই বেশি পোশাক কিনেছে। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মতো অনেক দেশকে তারা বঞ্চিত করেছে। এতে দেশের গার্মেন্ট শিল্প মালিকরা নানামুখী চ্যালেঞ্জে পড়েছেন। তবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ক্রেতাদের কাছে ঠেকে গার্মেন্ট মালিকরা শেখেনি এবং তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ‘বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার পোশাক খাতের পুনরুদ্ধার : ভ্যালু চেইনভিত্তিক সমাধান কি সম্ভব?’ শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সংলাপে উঠে আসে এসব কথা।

গত মঙ্গলবার রাতে ভার্চুয়ালি এই সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ঢাকা, ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ অফ শ্রীলঙ্কা (আইপিএস), কলম্বো এবং সাউদার্ন ভয়েজের সহযোগিতায় এই সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তারা আরো বলেন, গত জানুয়ারি থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি বড় সরবরাহকারী দেশকে বঞ্চিত করেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে সরবরাহকারী দেশগুলোতে অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের অর্ডার ফের বিতরণ করা যেতে পারে যদি কভিড-পূর্ব সময়ের রপ্তানির আদেশের অংশ বজায় রাখা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং আইপিএসের অর্থনীতিবিদ কিথমিনা হিউজ জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে বড় দেশগুলো এই মহামারির সময়ে সীমাবদ্ধ সংখ্যক সোর্সিং দেশগুলোতে বেশি গিয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় ক্রেতাদের কাছে ঠেকে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

শ্রীলঙ্কার কালেক্টিভ স্টোরের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিনু বিক্রমাসিংহ বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই অতিমারির জন্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, বিশেষ করে ঋণ পাওয়া ও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে। অনলাইন বাণিজ্য এই অতিমারিতে একটা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সংলাপে বলেন, যে পোশাক খাতের ভ্যালু চেইনের সব অংশীজনরা অতিমারিতে প্রভাবিত হয়েছিল তাই এই গবেষণার ফলাফলগুলো গুরুত্বপূূর্ণ। এই খাতকে টেকসই করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে সব অংশীজনকে কিছু নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

এ ছাড়া সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, আইএলও সরবরাহকারী দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক চাহিদা ব্যবস্থাপনার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রয়কারী দেশগুলোকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে একটি উদ্যোক্তা ভূমিকা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সরকার, নিয়োগকারী এবং শ্রমিকদেরসহ ত্রিপক্ষীয় সংলাপ করা উচিত, যাতে কেবল কভিড সংকটের তাত্ক্ষণিক প্রভাব নয়, দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের জন্য বেকার বীমা ব্যবস্থার পারস্পরিক সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। সিপিডির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইদুজ্জামানসহ অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই সংলাপে যোগ দেন।



সাতদিনের সেরা