kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

ভালো নেই টুপির কারিগররা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালো নেই টুপির কারিগররা

ধুনট উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাড়ির আঙিনায় বসে টুপি তৈরি করছেন নারী কারিগররা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি জালি টুপি শিল্প। সারা বছরের চেয়ে রমজানে টুপির চাহিদা বেশি থাকে। প্রতিবছর এ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন টুপি তৈরির কারিগররা। এখানকার টুপি দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানিও হয়। এতে দামও মেলে আশানুরূপ। টুপি বিক্রি করে ঈদের নতুন পোশাক, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যয়ভার অনেকেই বহন করতেন। কিন্তু করোনার থাবায় এবারই তার ব্যতিক্রম। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না টুপি। তাই ফিকে হয়ে যাচ্ছে নারী কাগিরদের ঈদ আনন্দ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় অন্তত অর্ধলাখ নারী টুপি বুননে কাজ করেন। গ্রামের নারীদের হাতে তৈরি জালি টুপি দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে সৌদি আরব, দুবাই, কাতার, পাকিস্তান, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে সুনাম কুড়িয়েছে। টুপি তৈরি করে অনেক নারী সংসারের হাল ধরেছেন। কেউ বা দারিদ্র্য ঘুচিয়েছেন। অন্য সময়ের চেয়ে রমজানে টুপির চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে শবেবরাতের পর থেকে পরবর্তী এক মাসে বেশি তৈরি হয় টুপি। এই সময়ে আয়ও বেড়ে যায় নারীদের। এবার করোনার প্রভাব টুপিশিল্পেও পড়েছে। টুপি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের আয়-রোজগার বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাঁদের কপালে।

টুপি তৈরিতে নিয়োজিত নারীরা জনিয়েছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা টুপি না কেনায় ঈদের আগে তাঁরা অন্তত ১০-১৫ হাজার টাকা আয় থেকে বঞ্চিত। এতে ঈদের কেনাকাটা করা যেমন অসম্ভব, তেমনি সংসারের খরচ বহন করাও কষ্টসাধ্য। তাঁরা অবিলম্বে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। টুপির খুচরা ক্রেতারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরের বেশির ভাগ মার্কেটে আগের মতো স্বাভাবিক কেনাকাটা হচ্ছে না। লাখ লাখ টাকার টুপি পড়ে আছে মহাজনের গোডাউনে। অর্ডার থাকলেও করোনার কারণে সেগুলো দেশ-বিদেশে পাঠানো যাচ্ছে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁরা নারীদের উৎপাদিত টুপি কেনা বন্ধ রেখেছেন।

জালি টুপির পাইকারি ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আনি। এ বছর শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক, ব্যাপারি, শ্রমিক—সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমরা সরকার থেকে কোনো অনুদান বা সহযোগিতা পাইনি। শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে করোনা দুর্যোগে সরকারকে পাশে দাঁড়াতে হবে, প্রণোদনা দিতে হবে।’