kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

সীতাকুণ্ডে প্রথমবার হলুদ তরমুজ চাষ

পানির অভাবে লাভের খাতায় গচ্চা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানির অভাবে লাভের খাতায় গচ্চা

বাগানে তরমুজ হাতে একজন কৃষক। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের বসরতনগর গ্রাম। সেই গ্রামের একটি ক্ষেতে চাষ করা হয় হলুদ রঙের চায়না তরমুজ। জাল দিয়ে সেগুলো সযত্নে ঘিরে রেখেছেন কৃষক। হলুদ রঙের এ তরমুজ এই তল্লাটে (এলাকায়) আগে কখনো চাষ হয়নি। আরেকটু বড় হলেই তরমুজগুলো বাজারে নিয়ে বিক্রি করার স্বপ্ন ছিল চাষির। কিন্তু গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরায় ক্ষেতটি যেমন ফেটে চৌচির, তেমনি চৌচির হয়ে গেছে এই তরমুজ চাষিদের স্বপ্নও। প্রথমবার ব্যতিক্রমী এই তরমুজ চাষ করে হতাশ চাষিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসরতনগর গ্রামে কয়েকজন যুবক মিলে প্রথমবারের মতো চায়না হলুদ তরমুজের চাষ করেছেন। ক্ষেতে প্রচুর ফলনও ধরেছে। কিন্তু গ্রীষ্মের শুরু থেকে প্রবল খরায় মাঠগুলো ফেটে চৌচির। পানির অভাবে গাছেই শুকিয়ে যেতে থাকে তরমুজগুলো। আর এতে স্বপ্ন ভাঙতে শুরু করে চার যুবকের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাচাং পদ্ধতিতে রোপণ করা সবুজ রঙের গাছগুলো পাঁচ-ছয় ফুট লম্বা। প্রায় সব গাছেই হলুদ তরমুজ ধরেছে; কিন্তু তা আকারে বাড়ছে না। ক্ষেতেই কথা হয় চাষি মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভার বাসিন্দা হলে বন্ধুদের সঙ্গে সৈয়দপুরের বসরতনগরে গিয়ে ৫৬ শতক জমিতে এই তরমুজ চাষ করেছেন। জসীম ও তাঁর চাষি বন্ধু শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এ তরমুজ চাষ হয় উত্তরবঙ্গে। সীতাকুণ্ডে এ তরমুজ কেউ চাষ করেন বলে জানা নেই। তরমুজগুলো দারুণ দেখতে, স্বাদও বেশ। তাই আমরা মনে করেছি এই তরমুজ চাষ করলে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে। লাভের আশায় হলুদ তরমুজের তিন প্রজাতির বীজ এনে চারা উৎপাদনের জন্য ঘরের মধ্যে ট্রেতে রাখি। শেষে মালচিং পেপার দেওয়া হয় আড়িগুলোর ওপর। চারাগুলো লাগানোর পরই পানির অভাব দেখা দেয়। আমরা পানিসংকট দূর করতে অনেক দূর থেকে পানি এনে ২০-২৫ ঘণ্টা জমিতে সেচ দিই। গাছের লতা আসা শুরু করলে মাচা তৈরি করা হয়। কিন্তু গরম যত বাড়তে থাকে বৃষ্টি না থাকায় ততই গাছগুলো শুকাতে থাকে। এ অবস্থায় ফলগুলো আধাকেজি, এক কেজি সাইজের হওয়ার পরই ঝরে যেতে থাকে।’

এই এলাকায় কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা তাঁরা পান না জানিয়ে বলেন, এখানে প্রচুর কৃষিজমি আছে। সেচের পানির অভাবে কৃষকরা যুগ যুগ ধরে লোকসান দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কৃষি বিভাগ থেকে ক্ষেতে কোনো গভীর নলকূপ বা কলের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে কৃষকের ঘামঝরা শ্রম বিফল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, ‘হলুদ তরমুজ চাষের কথা তিনি জানেন না। তবে এখানে একসময় অন্য প্রজাতির তরমুজ চাষ হতো। পানিসংকটের কারণে সেসব চাষও বন্ধ হয়ে গেছে। গভীরতা প্রচুর হওয়ায় এখানে কোনো গভীর নলকূপও স্থাপন করা যায় না। তাঁরা যদি কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চাষ করতেন, তাহলে হয়তো আগেই জেনে যেতেন যে এ ফসল চাষের জন্য অনেক পানি লাগে।’ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহাও জানান, এ তরমুজ চাষের কথা তাঁর জানা নেই। কেউ তাঁকে জানায়নি। সাংবাদিকদের কাছেই তিনি শুনেছেন। সেখানে কী অবস্থা খোঁজ নিয়ে তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।