kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

‘স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে লকডাউন’

সজীব আহমেদ   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে লকডাউন’

ছিদ্দিকুর রহমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর গুলশানের নর্দা সরকারবাড়ী এলাকায় কাপড় ব্যবসায়ী ‘মোমেনা ফ্যাশন শপ’-এর মালিক ছিদ্দিকুর রহমান। করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কায় তিনি ব্যাবসায়িকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ওই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর ঈদে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। ধাক্কা কাটিয়ে ব্যবসায় গতি পেতে শুরু করেছিল। তাই ঈদকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় নতুন করে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। গতবার যে ক্ষতি হয়েছিল এবার তা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন করে লকডাউন শুরু হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এই ব্যবসায়ী। শুধু ছিদ্দিকুর নন; তাঁর মতো লাখ লাখ ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীর একই অবস্থা। লকডাউনে দোকান খুলতে পারছেন না। ঋণের টাকায় কেনা কাপড়ের কী হবে, আবার কিস্তি কী করে দেবে। এ নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

ছিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার তিন ছেলে-মেয়ে সবাই পড়াশোনা করে। বড় ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। এই ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই আমার সংসার চলে। করোনার প্রথম ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় ঋণ করে যে সংসার চলছিল সেই ঋণের টাকা এখনো দিতে হচ্ছে। করোনায় ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় এই ঈদকে কেন্দ্র করে আবার ব্র্যাক এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা এবং লাভের উপরে আরো বেশ কিছু টাকা ধার হিসেবে নিয়ে দোকানে নতুন জামা-কাপড় তুলেছি। চলমান লকডাউনে পরিস্থিতি খুব খারাপ। লকডাউন যদি আরো বাড়ানো হয় এবার পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর রোজার ঈদেও এ রকম একটা অবস্থা ছিল। তখন বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-কর্জ করে কষ্টে চলেছিলাম। এবার কারো কাছে ধার করার রাস্তাও নেই, কারণ ধার করে আনা আগের টাকাই তো এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। কিস্তির টাকা এবং লাভের উপরে ধার করে আনা টাকা কিভাবে দেব সেই চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এই লকডাউন আমাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।’

ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বছরে দুই ঈদকে ঘিরেই আমাদের বেচাকেনা হয়ে থাকে। তাই সব সময় ঈদকে ঘিরেই আমাদের বেশি পরিকল্পনা থাকে। প্রায় সব ব্যবসায়ী বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার-দেনা করে মালপত্র উঠিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার যাঁরা আমার মতো ঋণ নিয়ে কাপড় কিনে রেখেছেন তাঁরাই বিপদে পড়ে গেছেন। যদিও আট দিনের কথা বলা হয়েছে। আট দিনের মধ্যে উঠে গেলে অন্তত বাঁচা যাবে। কিন্তু যদি লকডাউন আবার বাড়ানো হয় আমার মতো কয়েক হাজার ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীকে পথে বসতে হবে। তাই আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে যেভাবেই হোক ঈদের আগে দোকান খোলা রাখার ব্যবস্থা করে দিতে হবে সরকারকে।’



সাতদিনের সেরা