kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

ফোর্বসের তালিকায় ৯ বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

সংকটেও সফল তরুণরা

বাণিজ্য ডেস্ক   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংকটেও সফল তরুণরা

করোনা মহামারিতে বিশ্ব যখন সংকট আর অনিশ্চয়তায় তখনো কিছু তরুণ তাঁদের পরিশ্রম ও অসামান্য অবদানে ছড়াচ্ছেন আলো। প্রযুক্তিভিত্তিক উদীয়মান খাতে অবদান এবং মানুষের জীবনমান ও সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখায় এ বছর ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়া ২০২১’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ৯ তরুণ। ২০১১ সালে ব্যবসাবিষয়ক ম্যাগাজিন ফোবর্স এই তালিকা করা শুরু করে। ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৯ বাংলাদেশি এই তালিকায় স্থান পান। আর ২০২১ সালে এসে এক বছরেই ৯ তরুণ সম্মানজনক এই স্বীকৃতি পেলেন, যা করোনা সংকটেও বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, সামাজিক প্রভাব, খুচরা ও ই-বাণিজ্যে অবদান রাখায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেন দেশের এই তরুণরা। ‘ফোর্বস’ এ বছর অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী এশীয় অঞ্চলের ৩০০ তরুণের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে ২২ দেশের মধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ ৭৬ তরুণের নাম উঠে এসেছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিভাগে স্থান পাওয়া তিন বাংলাদেশি হচ্ছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক উদ্যোগ ‘গেজ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা শেহজাদ নূর তাওস প্রিয় (২৪), মোতাসিম বীর রহমান (২৬) এবং স্টার্টআপ ক্র্যামস্ট্যাকের প্রতিষ্ঠাতা মীর সাকিব (২৮)।

শেহজাদ নূর তাওস ও মোতাসিম বীর রহমান ‘গেজ’ এর জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশভিত্তিক এআই স্টার্টআপ গেজ অনলাইন লেনদেনের জন্য ভিজ্যুয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি সরবরাহ করে। মীর সাকিবের প্রতিষ্ঠান ক্র্যামস্ট্যাক তথ্য-উপাত্ত বা ডাটা নিয়ে কাজ করে। এটি একটি বিজনেস ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য খোঁজা, বিশ্লেষণ ও ব্যবহার করতে পারে।

সামাজিক প্রভাব ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের তিনজন সম্মানিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন ‘অ্যাওয়ারনেস ৩৬০’ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা শোমি চৌধুরী (২৬) ও রিজভী আরেফিন (২৬) এবং অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের আহমেদ ইমতিয়াজ জামি (২৭)। কুয়ালালামপুরভিত্তিক এনজিও অ্যাওয়ারনেস ৩৬০-এর বর্তমানে ২৩টি দেশে দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। হাত ধোয়া, জল-পরিস্রাবণ, স্যানিটেশনসহ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচার চালাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া অভিযাত্রিকের রয়েছে নিজস্ব স্কুল এবং অনুদান কর্মসূচি। করোনা মহামারির সময়েও পিছিয়ে থাকেনি অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন।

সেরার তালিকায় থাকা বাংলাদেশের বাকি তিনজন হলেন হাইড্রোকো প্লাসের প্রতিষ্ঠাতা রিজভানা হৃদিতা (২৮) ও মো. জাহিন রোহান রাজীন (২২) এবং পিকাবোর সহপ্রতিষ্ঠাতা মোরিন তালুকদার (২৭)। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকাভিত্তিক হাইড্রোকো প্লাস নিরাপদ পানি নিয়ে কাজ করে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সেবামূলক সংস্থা পানির গুণগত মান নিয়ে করা তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে।

এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পানির গুণাগুণ ও পানিতে থাকা জীবাণু শনাক্তের কৌশল বের করেন জাহিন। ২০২০ সালে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে জাতিসংঘের এমন ১৭ জন তরুণ নেতার তালিকায় স্থান পান বাংলাদেশি এই তরুণ প্রযুক্তিবিদ।

রিটেইল অ্যান্ড ই-কমার্স ক্যাটাগরিতে স্থান করে নেওয়া মরিন তালুকদারের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম পিকাবু ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে। ২০২১ সালের মধ্যে এটি দেশব্যাপী দেড় শটি দোকান (ফিজিক্যাল স্টোর) খোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গত বছর ফোর্বসের এশিয়ার ৩০ বছরের কম বয়সী উদ্যোক্তা ও সমাজ পরিবর্তনকারী তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশের রাবা খান ও ইশরাত করিম।

ফোর্বসের এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিড-১৯ টানেলের শেষে আলো দেখছে এশিয়া। কারণ এশিয়ার অনূর্ধ্ব ৩০ তরুণ করোনা সংকটের মাঝেও কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নতুন স্বাভাবিকতার সূচনা করে যাচ্ছেন। এমনকি করোনায় অর্থায়ন কমে গেলেও এসব তরুণ তাঁদের সফলতা দিয়ে তহবিল ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে ১৭ স্টার্টআপসের প্রত্যেকে দেড় কোটি ডলার করে ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে।



সাতদিনের সেরা