kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

আবারও পার্সেল ট্রেনে পরিবহন শুরু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবারও পার্সেল ট্রেনে পরিবহন শুরু

গতকাল পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে পণ্য নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় পার্সেল ট্রেনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে আবারও পঞ্চগড় থেকে পার্সেল ট্রেনে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে পণ্য নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় রেলওয়ের বিশেষ একটি পার্সেল ট্রেন। প্রথম দিনেই পঞ্চগড়ের চারজন ব্যবসায়ীর শসা, টমেটো, বেগুন ও শুকনা মরিচসহ প্রায় তিন মেট্রিক টন পণ্য পাঠানো হয়। বিশেষ এই পার্সেল ট্রেনটিতে চার বগিতে পরিবহন ক্ষমতা রয়েছে ১৬০ মেট্রিক টন। গত বছরের মে মাসেও করোনায় বিশেষ পরিস্থিতিতে কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে পঞ্চগড় থেকে পার্সেল ট্রেন চালু করেছিল রেল মন্ত্রণালয়। পার্সেল ট্রেনে পণ্য পরিবহনের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন ও রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদসহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

রেলের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি সপ্তাহের শনি, সোম ও বুধবার দুপুর ১টায় পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে পার্সেল ট্রেনটি ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে পরদিন ভোর ৩টায়। আবার রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ট্রেনটি সকাল ৬টায় ছেড়ে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৮টায়। প্রতি কেজি কাঁচা শাক-সবজিসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য খরচ হবে এক টাকা ৫৬ পয়সা। সড়কপথের চেয়ে কম খরচেই কৃষক ও ব্যবসায়ীরা রেলে পণ্য পরিবাহন করতে পারবেন। সড়কপথে ১০ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহনে ২৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও রেলে ১৫ হাজার টাকাতেই সেই পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা যাবে। তবে বারবার ওঠানামার ঝামেলার কারণে রেলে পণ্য পরিবহনে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, রেলে পরিবহন খরচ অর্ধেক হলেও বারবার ওঠানামা করার কারণে তা সড়কপথের মতোই খরচ পড়ে যায়। এ ছাড়া কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যেও সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। তাই পণ্য পরিবহনে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না তাঁদের।

পঞ্চগড়ের সবজি ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘রেলে খরচ কম কিন্তু বারবার ওঠানামা করতে হয়। প্রথমে রেলস্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয় আলাদা গাড়িতে। সেখান থেকে রেলে ঢাকা কমলাপুর পর্যন্ত নিয়ে সেখান থেকে পণ্য নামিয়ে আবার অন্য গাড়িতে গন্তব্যে নিয়ে যেতে হয়। এভাবে খরচ সড়কপথের মতোই হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বাড়তি ঝামেলা হয়। তাই ব্যবসায়ীরা রেলে পণ্য পরিবহনে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।’

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যেন সহজেই এই কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে দেশের এ প্রান্ত থেকে ঢাকায় সহজেই পণ্য পাঠাতে পারেন সে জন্য রেলপথমন্ত্রী পঞ্চগড় থেকে আবারও পার্সেল ট্রেনে পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা চাই এ এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সে সুযোগ কাজে লাগাক।’



সাতদিনের সেরা