kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

‘একটা বেলুনও বিক্রি হয়নি সারা দিনে’

এ এস এম সাদ   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘একটা বেলুনও বিক্রি হয়নি সারা দিনে’

লকডাউনে বন্ধ রাজধানীর বিপণিবিতানসহ সব কিছু। তাই বলে পেটের ক্ষুধা তো আর থেমে থাকে না। ওদিকে কাজকর্ম না থাকায় কয়েক দিন ধরে ঘরে বসা ট্রাকচালক বাবা। তাই রাজধানীর ফাঁকা রাস্তায় দুই টাকা আয়ের আশায় বেলুন বিক্রি করছে জাফর সাদেক। ১৭ বছর বয়সী জাফর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখার পাশাপাশি দিনের অর্ধেক সময় বেলুন বিক্রি করে রাজধানীর শ্যামলীতে। হরেক রকমের গ্যাস বেলুনের সংগ্রহ আছে তার।

কিন্তু গতকাল সারা দিন চেষ্টা করে একটা বেলুনও বিক্রি করতে পারেনি বলে আক্ষেপের শেষ নেই। সে বলে, ‘লকডাউনে সব রকমের শপিং মল বন্ধ। রাস্তা-ঘাটে ছোট বাচ্চারা নেই। আমার বেলুনও বিক্রি হচ্ছে না। এ কয়দিন ছয়-সাতটা করে বিক্রি করতে পারলেও আজ তাও পারলাম না। মা গৃহিণী, বাবা ট্রাক ড্রাইভার। কিন্তু নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় মালপত্র নিতে বাবাকে কেউ ডাকে না। দুইটা ছোট ভাই-বোন আছে, পড়ালেখা করে। এখন সংসারের খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। গতবারের মতো অবস্থা হলে আবার ঢাকা ছাড়া লাগবে।’

করোনার আগে জাফর দৈনিক প্রায় তিন-চার শ টাকার বেলুন বিক্রি করত। এতে মাসে তার আট হাজার টাকা আয় হতো। বাবার সঙ্গে তার বাড়তি আয়ে পরিবারে সচ্ছলতা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু গত বছর করোনায় পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে চলে যায় তার পরিবার। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলে আবার ঢাকায় ফেরে তারা। গত নভেম্বর থেকে আবার কাজ শুরু করে জাফর ও তার বাবা। তবে জাফর চায় তার ছোট ভাই-বোন দুটি যেন পড়ালেখা করতে পারে নিয়মিত।

জাফর বলে, ‘ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। সঙ্গে আমার ছোট ভাই-বোন স্কুলে পড়ে। বাবার আয় দিয়ে সংসার খুব একটা ভালোমতো চলে না। তাই একটু কষ্ট করে হলেও বেলুন বিক্রি করছি। ছোট ভাই-বোনদের সাহায্য করতে পারি। আমি চাই না ওরা আমার মতো কষ্ট করুক। আমার ঠিকমতো পড়ালেখা হয়নি, ওরা যদি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে, আমি খুশি হব।’ জাফর বলে, ‘‘আমাদের কোনো সঞ্চয় নাই, গত বছর কিছু ছিল, দুই সপ্তাহের মতো খরচ করতে পেরেছিলাম। পরে অনেক জায়গা থেকে ধারদেনা করেছিলাম। সেগুলো ফেরত দিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন লকডাউন যদি আরো বাড়ে আমরা কিভাবে বেঁচে থাকব জানি না।’

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ রকম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এখন কোনো পুঁজি নেই। গত লকডাউনে তাঁরা কোনো রকম বেঁচে ছিল। কিন্তু এই লকডাউনে সরকারের পক্ষ থেকে কী রকম সাহায্য আসা দরকার তা কিন্তু সুনির্দিষ্ট নয়। তাই সরকারের প্রণোদনা দেওয়া হলেও খুব বেশি উপকারে আসবে বলে মনে হয় না। তবুও লকডাউনের সময় সরকারের পক্ষ থেকে একটা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’