kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হলেও তাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার ‘এফডিআই ফর এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন অ্যান্ড স্মুথ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই পরামর্শ দেন তাঁরা। যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন ও রিসার্স পলিসি ইনটিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)।

ইআরএফের সহসভাপতি এম শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিযোগী অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ অনেক কম। গত অর্থবছরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ একই সময়ে কম্বোডিয়ায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন ডলার আর ভিয়েতনামে ১৬১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে বার্ষিক বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ জিডিপির মাত্র এক শতাংশের মতো আর ভিয়েতনামে তা প্রায় ৬ শতাংশ। অথচ সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাসহ অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান করব্যবস্থাকে অন্যতম বাধা হিসেবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান কর প্রদান পদ্ধতি ব্যবসাবান্ধব নয়। কর ব্যবস্থাপনায় ব্যবসাবান্ধব করে দেওয়া উচিত। এটি ঠিক না হলে নতুন ব্যবসা তো দূরের কথা, বিদ্যমান ব্যবসাই থাকবে না।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেন। এ ক্ষেত্রে বিডার পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ঘাটতিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশে কর্মরত বিদেশি ৫০ হাজার কর্মীর জন্য টিকা চাওয়া হয়েছিল। একাধিক সভা এবং চিঠি দেওয়ার পরও তা এখনো হয়নি। তারা এই টিকা পেলে তো ইতিবাচক বার্তা যেত। অবশ্য বিনিয়োগ আকর্ষণে বিডার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে (করোনা অতিমারি) জিডিপি এগোচ্ছে, আপনারা আয় করতে পারছেন—এটা ইতিবাচক।’ এ সময় আরো বক্তব্য দেন দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ প্রমুখ।