kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

দরজিরা আবার দুশ্চিন্তায়

আগেরবার রডমিস্ত্রির কাজ করেছি, এবার কী করব?

সজীব আহমেদ   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগেরবার রডমিস্ত্রির কাজ করেছি, এবার কী করব?

বিসমিল্লাহ টেইলার্সে দরজির কাজ করেন মো. সাইফুল ইসলাম

রাজধানীর ভাটারা থানার দক্ষিণ কুড়িল এলাকায় বিসমিল্লাহ টেইলার্সে সাত বছর ধরে দরজির কাজ করেন মো. সাইফুল ইসলাম। করোনাভাইরাসের কারণে দোকান-মার্কেট সব বন্ধ থাকায় গত বছর ঈদে সেলাই মেশিনে বসার কোনো সুযোগ পাননি। পরে বাধ্য হয়ে পরিবারের খরচ জোগাতে পেশা পরিবর্তন করে রড মিস্ত্রির কাজ করেছেন। এ কাজে অভিজ্ঞতা না থাকায় ৩৫০ টাকা রোজে কাজ করতে হয় তাঁকে। এই টাকায় বাসা ভাড়া ও পরিবারের খরচ চালাতে খুবই কষ্ট হয়েছিল তাঁর। এখনো বেশ কয়েক মাসের বাসা ভাড়া বাকি রয়েছে।

তিনি এই ঈদে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে লকডাউন ঘোষণায় আবারও শঙ্কায় পড়েছেন সাইফুল ইসলামের মতো দরজিশিল্পে জড়িত কয়েক লাখ কর্মীর জীবিকা। তিনি বলেন, আগেরবার পেশা পরিবর্তন করে রড মিস্ত্রির কাজ করেছি, এখন করব কী?

সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্ত্রী ও দুই বছরের এক সন্তান নিয়ে ভাড়ায় থাকি ছোলমাইদ এলাকায়। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে থাকা মা-বাবাকেও মাসে কিছু খরচ দিতে হয়। টেইলার্সে দরজির কাজ করে মাসে ১৫ হাজার টাকা কামানো যেত। এই টাকায় ভালোভাবে সব চলছিল। কিন্তু করোনার কারণে গত বছর টেইলার্সের কাজ বন্ধ থাকায় পরিবারকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য রড মিস্ত্রির কাজে লেগে গিয়েছিলাম। লেবার হিসেবে ৩৫০ টাকা রোজে টানা ছয়-সাত মাস কাজ করেছি। এই কাজ করে পরিবার নিয়ে কোনো মতে খেয়ে যেতে পারলেও ঠিকভাবে বাসা ভাড়া দিতে পারিনি। ধারও আমাদের কেউ দেয় না। তাই বাসার মালিককে আশ্বাস দিয়েছিলাম এই রোজার ঈদে টেইলার্সের কাজ করে টাকা পরিশোধ করে দেব। কিন্তু এখন কাজ করব তো দূরের কথা লকডাউনের কারণে দোকান খুলে মেশিনেই বসা যাচ্ছে না। পেট বাঁচাতে পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি করে দোকান খুলে মেশিনে বসলেও কাজ পাচ্ছি না। মাঝেমধ্যে দু-একটা কাজ পেলেও সে টাকায় বাজার খরচও হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ঈদের আগে রমজান মাসে অনেক দরজি নাওয়া-খাওয়া ভুলে রাত জেগে কাজ করতেন। কিন্তু করোনাকাল তাঁদের জন্য এক অভিশাপ। হাত-পা গুটিয়ে বসে আছি। ঈদের কোনো কাপড়ের অর্ডার নাই। এভাবে যদি চলতে হয় তাহলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো উপায় দেখছি না। আমরা চাই আমাদের মতো ক্ষুদ্র আয়ের মানুষদের দিকে তাকিয়ে হলেও লকডাউন যেন আর না বাড়ায় সরকার।’

বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা যায়, আগে পায়েচালিত মেশিনে কাজ করলেও এখন প্রতিটি টেইলার্সে বিদ্যুত্চালিত জেক পাওয়ার মেশিন দিয়ে দরজিরা সেলাই কাজ করেন। ঈদ উপলক্ষে লকডাউনের মধ্যেও কাজের আশায় বেশির ভাগ টেইলার্সের দোকান সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খোলা থাকলেও কাজের অর্ডার না থাকায় দরজিদের মেশিনের সামনে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ড্রেস মেকার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সারা দেশে ৩৫ হাজারের বেশি টেইলার্স রয়েছে। এসব টেইলার্সে উচ্চতর দক্ষ, আধা দক্ষ ও অদক্ষ হিসেবে পৌনে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। মহামারিতে ব্যবসা ভালো না হওয়ায় কর্মী কমিয়ে বা কর্মীদের বেতন কমানোর মাধ্যমে ব্যবসা চালিয়েছে টেইলার্সগুলো।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, করোনার ধাক্কায় দরজি শিল্প খাতে জড়িত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চাকরি হারিয়ে বেকার। তাঁদের অনেকে এরই মধ্যে বিকল্প পেশায় জড়িয়েছেন।